আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। ১ জুন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে বিজেপি সরকারের বহুচর্চিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে আনা এই প্রকল্পে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে সব মহিলা এই সুবিধা পাবেন না। আবেদন থেকে অনুমোদন— গোটা প্রক্রিয়াতেই থাকছে একাধিক শর্ত।
১৮ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এ নিয়ে ঘোষণা করেন। ১৯ মে অর্থ দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পোর্টাল চালু হবে। সেখানে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন রাজ্যের মহিলারা। গ্রামীণ এলাকায় আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে বিডিওদের উপর। শহরাঞ্চলে সেই কাজ করবেন এসডিওরা। সবশেষে জেলাশাসক বা ডিএম অনুমোদন দিলে তবেই টাকা পাঠানো হবে আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে।
কলকাতার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা। সেখানে পুর আধিকারিকেরা আবেদন খতিয়ে দেখবেন এবং পুর কমিশনারের অনুমোদনের পরেই তালিকা চূড়ান্ত হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা? অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী, পেনশনভোগী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মচারী, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের স্থায়ী কর্মীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। আয়করদাতারাও আবেদন করতে পারবেন না।
তবে যাঁরা এত দিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের নাম সরাসরি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন তাঁদের নাম নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
কিন্তু এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আবেদনকারী বা পুরনো গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর সংযুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ ডিবিটি বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার সক্রিয় না থাকলে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
এই ঘোষণা সামনে আসতেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখায় আধার লিঙ্ক করাতে ভিড় বেড়েছে। অনেক গ্রাহকের বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আধার জমা দেওয়া থাকলেও ডিবিটি সক্রিয় করা হয়নি। ফলে নতুন করে ব্যাঙ্কে যেতে হচ্ছে।
অনলাইনে নেটব্যাঙ্কিং বা মোবাইল অ্যাপ থেকেও আধার সংযুক্ত করা সম্ভব। আবার ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়েও ফর্ম পূরণ করে এই কাজ করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ব্যাঙ্কে যাওয়ার আগে ‘মাইআধার’ পোর্টালে গিয়ে সিডিং স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
এ বার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ও যুক্ত হয়েছে এই প্রকল্পে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের একাংশ আপাতত এই সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে। মৃত, অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া বা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নামও প্রকল্প থেকে বাদ রাখা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে আবেদন করে যাঁরা পুনর্বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু করেছিলেন। সেই প্রকল্পের জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখেই এবার বিধানসভা ভোটে মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে চলেছে নতুন সরকার।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার ব্যবস্থাও চালু করছে রাজ্য সরকার। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ করছে নতুন প্রশাসন।






