রাজ্য জুড়ে চলা জনকল্যাণ শিবিরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে কিছু প্রশ্নও। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার বিষয়ে বহু মানুষের মনে তৈরি হয়েছে সংশয়। ১৭ জুনের মধ্যে আবেদন না করতে পারলে কি সুযোগ হাতছাড়া হবে? পরে আবেদন করলে কি সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নগুলিরই উত্তর দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৫টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই জেলার পর জেলায় আয়োজন করা হয়েছে জনকল্যাণ শিবিরের। বুধবার, ১৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ উদ্যোগ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে ১,০২৫টি শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সোমবার পর্যন্ত ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৪০৩ জন মহিলা এবং ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ১৭৪ জন পুরুষ বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবা সম্পর্কে জানতে বা আবেদন করতে শিবিরে পৌঁছেছেন।
তবে শিবিরের নির্ধারিত সময়সীমা ঘিরে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের আশঙ্কা ছিল ১৭ জুনের পর হয়তো প্রকল্পগুলিতে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ আর থাকবে না।
সোমবার বীরভূমের কঙ্কালীতলায় একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে সেই প্রশ্নেরই মুখোমুখি হন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তিনদিনের একটা ক্যাম্পেন চলছে, তাঁর মানে সরকার তিনদিন পরিষেবা দেবে এমন নয়। ক্যাম্পে প্রতিটি রাজ্য সরকারি এবং কেন্দ্রের প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে জানান হচ্ছে। তিনদিন পরেও নিরন্তর এই পরিষেবা চলবে। সরকারি বিভিন্ন কার্যালয় থেকে সাধারণ মানুষ সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জনকল্যাণ শিবির শেষ হলেও সরকারি প্রকল্পে আবেদন বা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও আবেদন করা যাবে এবং প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
শিবিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে ঘিরে। প্রথম দিনেই উপস্থিত মানুষের অর্ধেকেরও বেশি এই দুই প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
শুধু নতুন আবেদন নয়, এই শিবিরে যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম কিষান, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতাসহ একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড বা অন্যান্য সরকারি নথিতে কোনও ভুল থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কোনও সরকারি পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকলে বা প্রশাসনিক জটিলতায় সমস্যায় পড়লে সরাসরি আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগও মিলছে এই শিবিরে।
জনকল্যাণ শিবিরের সামগ্রিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স। মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য ১৩ জুন থেকে একটি রাজ্যস্তরের কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে। টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫-০১১৭-এ ফোন করে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।






