Viral: আসলেই শওকত ‘মাছ চোর’! ভাইরাল গানের নেপথ্যে লুকিয়ে কোন গল্প? 

On: Friday, May 1, 2026 8:36 PM
---Advertisement---

ভাঙড়ের রাজনৈতিক ময়দান এখন আর শুধু ভোটের অঙ্কে আটকে নেই—সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিং গানও হয়ে উঠেছে তীব্র রাজনৈতিক অস্ত্র। ‘মাছ-চোর’ শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি আইএসএফের গান ইতিমধ্যেই ভাঙড় ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের আড্ডায়, রান্নাঘরে, এমনকি অরাজনৈতিক মহলেও। আর এই শব্দবন্ধ নিয়েই নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতি।

তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে নিশানা করে তৈরি এই গানের উৎস কোথায়—তা নিয়েই জল্পনা ছিল। সেই প্রশ্নের উত্তর সামনে আনলেন তাঁরই এক সময়ের সহযোদ্ধা কাইজার আহমেদ। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, এই ‘মাছ চোর’ তকমার সঙ্গে আইএসএফের কোনও প্রাথমিক যোগ নেই।

কাইজার আহমেদের কথায়, “মাছ চুরি করতো, তাই মাছ চোর বলেছি।” তিনি জানান, শওকতের জীবনের এক কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা থেকেই এই মন্তব্য। কাইজারের দাবি, সংসারের চাপে পড়ে একসময় অন্যের ভেড়ি থেকে মাছ তুলে এনে বাজারে বিক্রি করতেন শওকত। যদিও একইসঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি তিনি সমর্থন করেন না।

শুধু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ নয়, শওকতের রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন কাইজার। তাঁর বক্তব্য, “শওকত মোল্লা ২০১১ সালের নভেম্বরে যখন তৃণমূলে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে, ওই সময়ে জীবনহানির আশঙ্কা করছিল।… আমার কাছে আসে। আমি সে সময়ে শোভনদা, মুকুলদাকে বুঝিয়ে দলে ঢোকার রাস্তা তৈরি করে দিই।”

কিন্তু সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কাইজারের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সমীকরণ। তাঁর কথায়, “২০১৮ সাল থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে… পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের ওপর অত্যাচার শুরু করে।” এমনকি ২০২০ সালে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দীর্ঘ সময় এলাকা ছাড়া করে রাখার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

ভাঙড়ে কাইজার বনাম শওকতের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। বরং তা বহুদিনের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দ্বন্দ্বই পরবর্তীতে আইএসএফের উত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করে। কাইজারের দাবি, ধীরে ধীরে তাঁকে সংগঠন থেকে কোণঠাসা করা হয় এবং শেষমেশ সম্পূর্ণভাবে সাইডলাইন করে দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতেই ‘মাছ চোর’ শব্দবন্ধ নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে ওঠে। কাইজারের কথায়, “আমি একটা সময়ে শপথ করে নিই, ওকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করব… ওর পার্সোনাল কথা আমি একদিন এক প্রেসকে বলি।” এরপরই সেই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে এবং তা থেকেই গান তৈরি হয় বলে তাঁর দাবি।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাইজার আত্মবিশ্বাসী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “মাছ চোরকে মাছ চোর বলেছি, সেটা লুকানোর কী আছি!” একইসঙ্গে আইএসএফের তৈরি গান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভাঙড়ের এই বিতর্ক এখন শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা ক্রমশ বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হচ্ছে—যেখানে ব্যক্তিগত ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব একসঙ্গে মিশে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now