আরজি কর মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকাও তদন্তের আওতায়? জল্পনা উস্কে যা বললেন শুভেন্দু

On: Saturday, May 16, 2026 10:49 PM
---Advertisement---

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর প্রথম জেলা সফরেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী। গন্তব্য ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার। কিন্তু প্রশাসনিক বৈঠক বা উপনির্বাচনের প্রচারের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল আরজি কর কাণ্ড, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার ফলতার সভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেন, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে।” সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তের কথা ফের উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে বারুইপুর ও ক্যানিংয়ের দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “কার নির্দেশে কোথায় অত্যাচার হয়েছে, সব সামনে আনা হবে।”

শুধু আরজি কর নয়, এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে তিনি বলেন, কলকাতায় একাধিক সম্পত্তির নথি তাঁর হাতে এসেছে এবং সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই সংস্থার নাম আগেও উঠে এসেছে। যদিও সেই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফলতার পুনর্নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশকে পুরনো অভিযোগ গ্রহণ এবং এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

এ দিন ডায়মন্ড হারবার সফরের মাঝেই শুভেন্দু ঘোষণা করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে গঠিত পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি।

অন্যদিকে, শুভেন্দুর বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “আরজি করের ঘটনায় সিবিআই এখনও পর্যন্ত পুলিশের ধরা অভিযুক্ত ছাড়া নতুন কাউকে খুঁজে পায়নি। এখন পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি প্রসঙ্গে কুণাল স্পষ্ট জানান, “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।”

ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে শুভেন্দুর বার্তা স্পষ্ট— প্রশাসনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক হিসাবনিকাশও শুরু হয়েছে জোরকদমে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে এখন আরজি কর থেকে শুরু করে সম্পত্তি বিতর্ক— সবই।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now