আইপিএল শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক দিন। কিন্তু পরের মরসুম নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। আগামী বছর থেকে টুর্নামেন্টের সূচিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত গরম এবং বৃষ্টির কারণে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে যে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে, তার সমাধান খুঁজতেই এই ভাবনা।
২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হয়েছিল ২৮ মার্চ। প্রতিযোগিতার শেষভাগে একাধিক ম্যাচে আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও পঞ্জাব কিংসের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। আরও কয়েকটি ম্যাচেও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র গরমও চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দিনের ম্যাচগুলিতে ক্রিকেটারদের শারীরিক সমস্যার খবর সামনে আসে। দর্শকদেরও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আইপিএল আরও আগে শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিসিসিআই। বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে বলেছেন, “মাঝে বিরতির জন্য গত বছর আইপিএল এক সপ্তাহ বাড়াতে হয়েছিল। এ বারও প্রতিযোগিতা ৩১ মে পর্যন্ত চলল। কয়েকটা জায়গায় অত্যধিক গরম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। তাই ভাবছি, যদি আরও ১৫ দিন আগে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়।”
বোর্ডের হিসাব বলছে, টুর্নামেন্ট যদি মার্চের মাঝামাঝি শুরু করা যায়, তা হলে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ফাইনাল আয়োজন সম্ভব হবে। এতে গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টির শুরুর আগেই প্রতিযোগিতা শেষ করা যাবে।
শইকীয়া বলেন, “এ বার ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। পরের বছর চেষ্টা করব, ১৫ মার্চ শুরু করার। তা হলে ১৫ মে-র মধ্যে আইপিএল শেষ হয়ে যাবে। মে মাসের শেষের দিকে বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই সময় গরমও বাড়ে। তার প্রভাব ক্রিকেটার ও দর্শকদের উপর পড়ে। সেটা আর পড়বে না। তবে আপাতত সব ভাবনার পর্যায়ে আছে। এখনও কিছু ঠিক হয়নি।”
তবে আপাতত আইপিএলের আকার বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন বিসিসিআই সচিব। বর্তমানে ৭৪ ম্যাচের এই প্রতিযোগিতাকে আরও বড় করে ৯৪ ম্যাচে নিয়ে যাওয়া বা নতুন দল যুক্ত করার মতো সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি, বিভিন্ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় এবং খেলোয়াড়দের ব্যস্ততা— সব দিক বিবেচনা করেই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
ফলে আগামী বছরের আইপিএল কবে শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা না হলেও সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন বিসিসিআইয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।








