মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়িতে পৌঁছে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে উত্তরবঙ্গ। একইসঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় এবং ‘কাটমানি-মাফিয়ারাজ’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও শোনা গেল তাঁর গলায়।
বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর সরাসরি শিলিগুড়ির বিজেপি জেলা কার্যালয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। পথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাবার্তাও বলতে দেখা যায় তাঁকে। পরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তরবঙ্গ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “উত্তরবঙ্গ হল বিজেপির ভদ্রাসন। তাই এই সরকারের উন্নয়নের কাজে উত্তরবঙ্গ অগ্রাধিকার পাবে৷” পাশাপাশি তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের সমস্যা বা পরামর্শ সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এমনকি প্রতি সোমবার কলকাতায় দলীয় কার্যালয়ে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার নিয়েও এ দিন সরব হন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, “রাজ্যে কোথাও কাটমানি, সিন্ডিকেট, মাফিয়ারাজ থাকবে না৷ বিভাজনের রাজনীতিও বন্ধ করা হবে৷” তাঁর কথায়, নতুন সরকার “জনগণের সরকার” হিসেবেই কাজ করবে।
নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলিও দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে মানুষের কাছে দেওয়া কথা আমরা পূরণ করব । সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় রক্ষা হবে । দল আমাদের প্রতীক দিয়েছে, মানুষ নির্বাচিত করেছেন।”
পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গের মানুষকে দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “কর্মীরা এখানে অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বহু প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে৷ অপপ্রচার করেছে বিগত রাজ্য সরকার। পাহাড়ের জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করা হয়েছে প্রাক্তন সরকারের তরফে।”
শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক সংস্কারের ডাকও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু দলের রঙের ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক। যে ব্যবস্থার পরিবর্তনে তোলাবাজি কাটমানি থাকবে না।”
সরকারি কাজের পাশাপাশি সংগঠনের জন্যও সময় দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর এই সফরকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের বিজেপি সংগঠনের অন্দরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





