নির্দিষ্ট সময় মেনে অফিসে ঢোকা— এ যেন অলিখিত নিয়ম। কিন্তু কাজের চাপের অজুহাতে দেরিতে বেরনো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর এই ‘অদৃশ্য’ ওভারটাইমের কোনও আলাদা মূল্য মেলেনি বহু কর্মীর কাছে। এবার সেই ছবিতে বদল আনতে চলেছে নতুন শ্রম আইন।
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত New Labour Law-এ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করালে কর্মীকে দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিক দিতে হবে। অর্থাৎ ওভারটাইম আর ‘ফ্রি সার্ভিস’ নয়, সেটি আইনগতভাবে স্বীকৃত অতিরিক্ত কাজ— এবং তার মূল্য নির্ধারিত।
এই বিধান মূলত Factories Act 1948 এবং Shops and Establishments Act-এর আওতায় নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মী যদি দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, তবেই তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দ্বিগুণ হারে মজুরি দিতে হবে। তবে এরও সীমা নির্ধারিত— দিনে সর্বাধিক ৪ ঘণ্টা ওভারটাইম করানো যাবে, আর মোট কাজের সময় সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা ছাড়াতে পারবে না। পাশাপাশি, একটি ত্রৈমাসিকে ১২৫ ঘণ্টার বেশি ওভারটাইম করানো যাবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে।
ওভারটাইমের হিসাব নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা। কর্মীর বেসিক বেতনের ভিত্তিতেই অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, যদি কোনও কর্মীর দৈনিক বেসিক বেতন ১৫০০ টাকা হয়, তাহলে এক ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজের জন্য তিনি পাবেন দ্বিগুণ হিসেবে ৩০০০ টাকা। দুই ঘণ্টা কাজ করলে সেই অঙ্ক দাঁড়াবে ৬০০০ টাকা।
আইনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে— কোনও সংস্থা কর্মীকে জোর করে ওভারটাইম করাতে পারবে না। আবার কেউ অতিরিক্ত সময় কাজ করলে তার প্রাপ্য অর্থ দেওয়া থেকেও বিরত থাকা যাবে না।
শুধু ওভারটাইম নয়, এই নতুন শ্রম কাঠামোয় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্র্যাচুইটির নিয়মে সংশোধন, ছুটি ‘এনক্যাশমেন্ট’-এর সুযোগ, এমনকি চাকরি ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে নতুন প্রস্তাবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের অভিযোগ— ‘কাজের কোনও সময়সীমা নেই, কিন্তু মজুরির সীমা আছে’— সেই বাস্তবতায় আইনি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই নতুন শ্রম আইন। এখন দেখার, বাস্তবে এই নিয়ম কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।







