রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। বিধানসভা ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ১ জুন থেকেই এই পরিষেবা কার্যকর করতে চাইছে নতুন বিজেপি সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই চালু করা হচ্ছে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’।
পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, এই কার্ড থাকলেই সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা। বাসে ওঠার পর কার্ড দেখালে কন্ডাক্টর তাঁদের হাতে বিনামূল্যের টিকিট তুলে দেবেন। ইতিমধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একাধিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলার ভিত্তিতে কত সংখ্যক মহিলা প্রতিদিন সরকারি বাসে যাতায়াত করেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করেছে দফতর।
প্রশাসনের ধারণা, প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মহিলা এর সুবিধা পাবেন। কর্মজীবী মহিলা থেকে শুরু করে পড়ুয়া, গৃহবধূ— বহু মানুষই সরাসরি উপকৃত হবেন এই উদ্যোগে।
তবে এখনও পর্যন্ত ‘পিঙ্ক কার্ড’ বিতরণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। প্রশাসনিক মহলের প্রাথমিক ভাবনা, বিডিও অফিস, এসডিও অফিস কিংবা পুরসভার মাধ্যমে এই কার্ড দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
কার্ড বিলির পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছে পরিবহণ দফতর। সেই কারণে প্রথম পর্যায়ে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পিঙ্ক কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড দেখিয়েই মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যাতে বাসযাত্রীদের কোনও বিভ্রান্তি বা সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সে জন্য চালক এবং কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কী ভাবে যাত্রী যাচাই হবে, কী ভাবে বিনামূল্যের টিকিট ইস্যু করতে হবে— সেই বিষয়ে আলাদা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি পরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা আগেই চালু হয়েছে। এত দিন পশ্চিমবঙ্গ সেই তালিকার বাইরে থাকলেও এ বার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে এই ‘পিঙ্ক কার্ড’-কে কেন্দ্র করে আরও কিছু সরকারি পরিষেবাও যুক্ত করা হতে পারে।
ফলে শুধু বাসভাড়া মকুব নয়, আগামী দিনে এই কার্ড মহিলাদের জন্য একটি বহুমুখী পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।






