ইভিএম বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত, ফলতার সব ভোট বাতিল, কবে পুনর্নির্বাচন

On: Saturday, May 2, 2026 11:03 PM
---Advertisement---

ভোটপর্ব মিটে গেলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে এমন এক সিদ্ধান্ত সামনে এল, যা সাম্প্রতিক সময়ে কার্যত নজিরবিহীন। গোটা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণই বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বুধবার যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ মে ফের ভোট হবে ফলতার ২৮৫টি বুথে। আর গণনা হবে ২৪ মে। ফলে নির্ধারিত দিনে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনে গণনা হলেও ফলতা সেই তালিকা থেকে আপাতত বাদ থাকছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? কমিশনের ব্যাখ্যা, একাধিক বুথে গুরুতর নির্বাচনী অনিয়ম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্ক্রুটিনির সময় এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সূত্রের দাবি, কয়েকটি বুথে সিসিটিভি কার্যত বন্ধ ছিল। আবার কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে প্রতীক আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। দুপুরের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যাওয়ার পর সেই টেপ সরানো হয় বলে জানা যায়, যা পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

এই পরিস্থিতির জেরে প্রথমে আংশিক পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব উঠলেও, শেষ পর্যন্ত গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টে ফলতার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কথা উল্লেখ ছিল বলেই সূত্রের খবর।

ভোটের আগেই এই কেন্দ্র আলোচনায় আসে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ভোটের দিন ইভিএম কারচুপির অভিযোগও সামনে আসে। তার পর থেকেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়।

ভোট মিটলেও উত্তেজনা থামেনি। হাশিমনগর-সহ একাধিক এলাকায় সংঘর্ষ, মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কয়েক জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। স্থানীয় প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা কড়া হাতে সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ভোটগণনাকে ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। রাজ্যজুড়ে গণনাকেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্র। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকও।

গণনার দিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে প্রক্রিয়া। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএম—ধাপে ধাপে এগোবে গণনা। প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি থাকবে কড়া।

সব মিলিয়ে, ফলতা কাণ্ড রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রশ্ন তুলে দিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now