সহজ ম্যাচ আরও বড় ব্যবধানে জেতার সুযোগ ছিল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্টের গল্পের মাঝেই শেষ পর্যন্ত গোলবন্যা বইল যুবভারতীতে। ইস্ট বেঙ্গল (East Bengal) সোমবার ৭-০ গোলে হারাল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan Sporting Club)-কে। এই জয়ের ফলে আইএসএলে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এল লাল-হলুদ শিবির।
ম্যাচের শুরু থেকেই একচেটিয়া দাপট ছিল ইস্টবেঙ্গলের। আক্রমণের ঝড় তুললেও প্রথম দিকে গোলের থেকে বেশি চোখে পড়ে সুযোগ নষ্টের ছবি। Youssef Ezzejjari শুরুতেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। গোটা ম্যাচ জুড়েই ডেভিড লালানসাঙ্গা, পিভি বিষ্ণুরাও একাধিকবার গোলের সামনে ব্যর্থ হন। ফলে স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত।
১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের দরজা খুলে দেন এজেজারি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই আরও সুযোগ নষ্ট হলেও ৩৪ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান Saul Crespo। একই সঙ্গে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মহমেডানের জোসেফ আদজেই, ফলে প্রথমার্ধেই ১০ জনে নেমে আসে প্রতিপক্ষ।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ একেবারেই একপেশে হয়ে যায়। তৃতীয় পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এজেজারি। এরপর একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ে মহমেডানের রক্ষণ। পিভি বিষ্ণু, আনোয়ার আলী (Anwar Ali) এবং নন্দকুমার গোল করে ব্যবধান বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ৭-০ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হয়।
পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ম্যাচের চিত্র—ইস্টবেঙ্গল পেয়েছে ২০টি কর্নার, যেখানে মহমেডানের ঝুলিতে একটি-ও নেই। চলতি মরসুমে এটিই ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ৫-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল। পাশাপাশি গোলসংখ্যাতেও এগিয়ে লাল-হলুদ—৭ ম্যাচে ১৬ গোল করে তালিকার শীর্ষে তারা, পিছনে রয়েছে মোহন বাগান (Mohun Bagan Super Gian)t।
তবে বড় জয়ের মধ্যেও চিন্তার কারণ রেখে গেলেন কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। এত সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারা ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। সব ম্যাচে যে এত সুযোগ মিলবে না, সেটাও জানেন কোচ। তাই জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও আক্রমণভাগের নিখুঁত ফিনিশিং নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় ভাবনা ইস্টবেঙ্গল শিবিরে।








