টলিউডে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মাঝে হঠাৎই বদলের ইঙ্গিত। ফেডারেশন ও ডিরেক্টরস গিল্ডের দ্বন্দ্ব, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল, তা আচমকাই থামার মুখে। আর এই নাটকীয় পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব।
স্টুডিও পাড়ায় সাম্প্রতিক বৈঠকে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ‘ব্যান’ ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিনেতা ও পরিচালক কাজের বাইরে ছিলেন। সেই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন দেব।
বৈঠকের পর তিনি বলেন, “অনেক পরিচালক, অভিনেতারা ব্যান হয়ে আছে তাঁরা ৭২ ঘণ্টায় ফিরবে কাজে। যাঁরা যাঁরা ব্যান হয়ে আছেন তাঁদের সঙ্গে প্রসেনজিৎ দা কথা বলবেন।” তাঁর কথায়, শিল্পীদের কাজ থেকে দূরে রাখা অন্যায্য এবং সেই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি জানান, “আমরা আর আলাদা আলাদা সংগঠন নই, একটা পরিবার। এতদিন অনেকেই ব্যান হয়ে ছিলেন। বুম্বাদা আমায় ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। ব্যান উঠবে, তারা কাজে ফিরবে।”
এই বক্তব্যের পরেই দ্রুত বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। পরিচালকদের সংগঠন যে মামলা করেছিল প্রতিযোগিতা কমিশনে, তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়। ফলে বহুদিনের আইনি জট কাটার ইঙ্গিত মিলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও একতার বার্তা দেন দেব। তিনি লেখেন, “সিনেমা বাঁচে একতা আর শ্রদ্ধার ওপর। আমি বিশ্বাস করি ইন্ডাস্ট্রিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।”
এই ঘটনার মধ্যে আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। টলিউডে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই সরাসরি অবস্থান নেন দেব। তাঁর এই উদ্যোগে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ায় উত্তেজনা বাড়ছিল। সেই আবহেই এই সমঝোতা অনেকটাই চাপ কমাতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— এই সমাধান কি দীর্ঘস্থায়ী হবে? নাকি আবারও মতভেদ সামনে আসবে? আপাতত, টলিউডে স্বস্তির হাওয়া বইলেও চূড়ান্ত উত্তর দেবে সময়ই।






