আর মাত্র কয়েকটি পয়েন্ট। তাহলেই ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইপিএলের প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে গেল কেকআর (Kolkata Knight Riders)। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে অজিঙ্ক রাহানেদের। আর সেই ব্যর্থতার পিছনে সবচেয়ে বেশি করে ফিরে আসছে দু’টি ম্যাচের স্মৃতি।
প্রথম ধাক্কাটা এসেছিল পঞ্জাব কিংস (Punjab Kings)-এর বিরুদ্ধে। মরসুমের শুরুতেই টানা দু’টি ম্যাচ হেরে চাপে ছিল কেকেআর। ইডেনে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩.৪ ওভারে ২৫ রান তুলতেই নামে বৃষ্টি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে দু’দলই পায় ১ পয়েন্ট করে।
সেই সময় পঞ্জাব কিংস (Punjab Kings) দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও, ম্যাচের ফল কোন দিকে যেত তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তব হল, পুরো ম্যাচ হলে জয়ের সুযোগ ছিল কেকেআরেরও। সেই সম্ভাবনাই শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যায় বৃষ্টিতে। যে ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট আসতে পারত, সেখান থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রাহানেদের।
দ্বিতীয় ধাক্কা আরও বেশি কষ্টের। কারণ ম্যাচ কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়েও হারতে হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants)-এর বিরুদ্ধে। ইডেনে প্রথমে ব্যাট করে ১৮১ রান তোলে কেকেআর। রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভারে ১২৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল লখনউ। তখন জিততে দরকার ছিল ২৪ বলে ৫২ রান। ম্যাচ পুরোপুরি কেকেআরের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
সেখান থেকেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তুলনামূলক অচেনা ব্যাটার মুকুল চৌধরি। আইপিএলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন তিনি। মাত্র দু’টি চার মারলেও সাতটি বিশাল ছক্কায় কেকেআরের হাত থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে যান। যে ম্যাচ থেকে নিশ্চিত দুই পয়েন্ট আসার কথা ছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় বড় ধাক্কায়।
এই দুই ম্যাচের হিসেবটাই এখন তাড়া করছে Kolkata Knight Riders-কে। পঞ্জাব ম্যাচে যদি অতিরিক্ত এক পয়েন্ট এবং লখনউ ম্যাচে জয়ের দুই পয়েন্ট মিলত, তা হলে প্লে-অফের সমীকরণ পুরো বদলে যেত। দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচের আগেই ১৬ পয়েন্ট হয়ে যেত কেকেআরের। তখন আর অন্য দলের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হত না।
কিন্তু আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আর সেই কারণেই এ বারও অপূর্ণ থেকেই গেল কেকেআর সমর্থকদের প্লে-অফের আশা।








