শ্যুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জি (Rahul Arunoday Banerjee)-র আকস্মিক মৃত্যুর পর কার্যত থমকে গেছে টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার কারেগা’-র কাজ। তালসারি থেকে ইউনিট ফিরলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত শ্যুটিং শুরু হয়নি। টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া যেন অস্বাভাবিক নীরবতায় ঢাকা।
Movietone Studio-তে গিয়ে দেখা গেল, শ্যুটিং ফ্লোর ফাঁকা। নেই কোনও আলো, ক্যামেরা বা ব্যস্ততা। কলাকুশলী থেকে অভিনেতা—কারও উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ইউনিটের অন্দরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা—রাহুল ছাড়া ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা নেই।
ঘটনার পর টালিগঞ্জের একাংশে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থা ও চ্যানেলের তরফে মৃত অভিনেতার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও উঠছে। এই প্রসঙ্গে প্রযোজক রানা সরকার (Rana Sarkar)-সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব সরব হয়েছেন।
তবে বিতর্ক বাড়লেও প্রযোজনা সংস্থা বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay) জানিয়েছেন, “আমি শ্যুটিং স্পটে ছিলাম না। পুলিশ তদন্ত করছে, তাই এই মুহূর্তে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”
ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইউনিটের যে সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তাঁদের বক্তব্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ধারাবাহিকের পরিচালক শুভদীপ মন্ডল (Shubhadip Mondal)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে, অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও সেখানেও ধারাবাহিকের ইউনিটের কাউকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অনুপস্থিতি আরও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে গোটা ঘটনাকে ঘিরে।
এখন নজর রয়েছে পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তাঁরা নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, এই মৃত্যুর পেছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না—তার উত্তর খুঁজতেই চোখ এখন তদন্তের দিকে।






