মমতার বাড়ি লাগোয়া তৃণমূল দফতরে CID, চরম উত্তেজনা কালীঘাটে

On: Tuesday, June 9, 2026 5:27 PM
---Advertisement---

সই জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে নতুন মোড়। মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যায় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা CID-এর একটি দল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র বাড়ি সংলগ্ন এই দফতরেই কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে টানটান পরিস্থিতি। তদন্তকারীদের প্রবেশ ঘিরে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত অফিসে ঢুকতে সক্ষম হয় CID।

সূত্রের খবর, সই-কাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতেই কালীঘাটের দফতরে যায় গোয়েন্দারা। তাদের সঙ্গে ছিল রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। তবে দফতরের গেটে পৌঁছেই বাধার মুখে পড়তে হয় তদন্তকারী দলকে।

সেই সময় অফিসের দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন সাংসদ Subhasis Chakraborty। তিনি CID-কে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং Abhishek Banerjee দু’জনেই দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কোনওভাবেই তল্লাশির অনুমতি দিতে পারবেন না।

তদন্তকারীরা বারবার জানান, তাঁরা আইন মেনেই এসেছেন এবং তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে চান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া নোটিসও দেখানো হয়। কিন্তু শুভাশিসের বক্তব্য ছিল, “যাঁরা নেই, তাঁদের কার্যালয়ে আমি কী ভাবে ঢোকার অনুমতি দেব?”

প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর বিকেল চারটার কিছু পরে CID-কে অফিসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া।

তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছে সেই বৈঠক, যেখানে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বিধানসভার স্পিকার Rathindra Bose-র কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই চিঠি পাঠানোর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েছে বলেই তদন্ত আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

CID সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা স্বাক্ষর করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, সেই তথ্য খুঁজতেই কালীঘাটের দফতরে যাওয়া হয়। তদন্তকারীরা দফতরের CCTV ফুটেজও সংগ্রহ করতে চেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে একই তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও যায় CID-এর আরেকটি দল।

সই-কাণ্ডে এর আগেও একাধিকবার অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে CID। গত ৩০ মে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে প্রথম নোটিস দেওয়া হয়। পরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিষেক অতিরিক্ত সময় চান। তদন্তকারীরা সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। এরপর নতুন করে নোটিস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হাজিরা দেননি।

বিকেলে কালীঘাটের দফতরে পৌঁছে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “দলীয় কাজে আমি কার্যালয়ে এসেছিলাম। এখানে এসে শুনলাম তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র দল এসেছে।”

সই-কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক এবং আইনি চাপ বাড়ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর। কালীঘাটে CID-র এই অভিযান সেই তদন্তেরই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now