আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে লোকসভার আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী শক্তি অভিনন্দন অধিনিয়ম-এর কাঠামোকে কার্যকর রূপ দিতে নতুন সংশোধনী আনা হতে পারে। এই আইনে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের কথা বলা হলেও, তা বাস্তবে চালু করার জন্য সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে।
এই পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে করা হতে পারে। সরকারি মহলের মতে, এর ফলে বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসন বেড়ে প্রায় ৮১৬টিতে পৌঁছতে পারে। সেই হিসেবে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্ধারিত এক-তৃতীয়াংশ অনুপাতে পড়ে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য Delimitation Act-এ সংশোধন আনা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সংরক্ষণ কার্যকর করার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। সূত্রের খবর, সংরক্ষিত আসনগুলির বণ্টনে লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে, যাতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষণ কার্যকর হয় এবং ভারসাম্য বজায় থাকে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে তৎপরতা বাড়ছে। চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত বিল পেশ করার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নাকি এই প্রস্তাবের রূপরেখা নিয়ে একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
সম্প্রতি সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ২০২৯ সালের মধ্যে নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপের উপর জোর দেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশের নির্বাচনী কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।





