দেশের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা সামনে আনল কেন্দ্রীয় সরকার। কয়লাকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে উৎসাহ দিতে ৩৭,৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র নেতৃত্বে হওয়া অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, বিপুল পরিমাণ কয়লাকে প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাসে রূপান্তরিত করার জন্য একাধিক প্রকল্প গড়ে তোলা।
‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তিতে কয়লাকে সরাসরি জ্বালানো হয় না। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপের মধ্যে সীমিত অক্সিজেন এবং বাষ্প ব্যবহার করে কয়লা থেকে তৈরি করা হয় বিশেষ ধরনের গ্যাস। এই গ্যাস পরবর্তীতে সার, মিথানল, হাইড্রোজেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উৎপাদনে কাজে লাগে।
কেন্দ্রের ধারণা, এই পদ্ধতি চালু হলে বিদেশ থেকে তেল ও বিভিন্ন রাসায়নিক আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমানো যাবে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় আমদানিকৃত তেলের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি। পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিথানল ও অ্যামোনিয়ার ক্ষেত্রেও আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। নতুন প্রকল্প সেই চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে বলেই মনে করছে সরকার।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎসের উপর জোর বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, দেশে যে পরিমাণ কয়লা মজুত রয়েছে, তা দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। সেই কারণেই দেশীয় সম্পদকে ব্যবহার করে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। বর্তমানে ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই কয়লার মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নীতিতেও কয়লার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র।





