রাহুলের মৃত্যুর পর বড় সিদ্ধান্ত, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে কাজ নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত…, দীর্ঘ বৈঠকের পর জানিয়ে দিলেন প্রসেনজিৎরা

On: Tuesday, April 7, 2026 6:35 PM
---Advertisement---

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে একাধিক দিন, কিন্তু ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। এই অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের আবহেই টলিউডে বড় সিদ্ধান্ত নিল শিল্পী মহল। আপাতত ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রোডাকশন হাউস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তে ঐক্যমত হয়েছেন অভিনেতা-পরিচালকেরা।

মঙ্গলবার সকালে প্রতীকী কর্মবিরতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায় আর্টিস্ট ফোরাম। বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেব, কোয়েল মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জিশু সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। বৈঠকে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকারও উপস্থিত থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। জানা গিয়েছে, শিল্পীদের নিরাপত্তা, বিমা এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগামী ২৫ বছর মানুষ এই ঘটনাকে মনে রাখবে। এতে আমাদের কৃতিত্ব নেই, কৃতিত্ব সেই ছেলের, যে আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গেল। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব না, যারা রাহুলকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। যতক্ষণ না সত্যিটা সামনে আসছে—পাবলিকলি বা আইনের মাধ্যমে—আমরা অপেক্ষা করব, কিন্তু চুপ করে থাকব না।”

দিল্লি থেকে ফিরে বৈঠকে যোগ দেন রঞ্জিত মল্লিকও। তাঁর কথায়, “আমি কয়েকদিন বাইরে ছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছি। যাদের জন্য এই ঘটনা, তাদের সঙ্গে কাজ করা এখন সম্ভব নয়। আমরা জানতে চাই ঠিক কী হয়েছিল।”

তবে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখার পথে হাঁটতে চাননি শিল্পীরা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বুধবার থেকেই টেলিভিশন ও সিনেমার শুটিং আবার শুরু হবে। কিন্তু ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে কোনও রকম পেশাগত সম্পর্ক আপাতত স্থগিত থাকবে।

এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “আমরা সাধারণত ব্যান বা অসহযোগিতার পথে হাঁটি না। কিন্তু এই ঘটনার পর চুপ থাকাও সম্ভব নয়। তাই ওই সংস্থা ও তাদের পরিচালকদের সঙ্গে নন-কোঅপারেশনেই যাচ্ছি। যতদিন না তারা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে, ততদিন এই অবস্থান থাকবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আগে যেসব শিল্পী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।

শিল্পীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের সমস্যার কথাও উঠে আসে বৈঠকে। স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “অনেক দিন ধরেই শুটিং ফ্লোরে সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এই ঘটনা আমাদের আবার ভাবতে বাধ্য করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হবে, আর এক মাসের মধ্যে বিমার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই।”

একই সঙ্গে তিনি অতীতের শ্রমিক ও কলাকুশলীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আমাদের অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই করতে হয়েছে। অনেকেই জানেন সেই ইতিহাস। তাই হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিলে সব সমস্যার সমাধান হয় না, ধারাবাহিক উদ্যোগ দরকার।”

সব মিলিয়ে, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই শিল্পীমহলের মধ্যে ক্ষোভ ও ঐক্য—দুটোই স্পষ্ট হচ্ছে। কাজ শুরু হলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে একটাই—ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন? তার উত্তর না মিললে এই অস্বস্তি কাটবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now