৭২ ঘণ্টার মধ্যে টলিউডে ‘নিষিদ্ধ’ শিল্পীদের সমাধান করতে হবে, প্রসেনজিৎ-কে ডেডলাইন দেবের 

On: Tuesday, April 7, 2026 10:00 PM
---Advertisement---

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-এর মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে যখন টলিউড (Tollywood) একসুরে অবস্থান নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে মাথাচাড়া দিল আর এক জটিল প্রশ্ন—নিষিদ্ধ শিল্পীদের ভবিষ্যৎ। আর সেই ইস্যুতেই সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিলেন দেব, যার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)।

মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব (Dev) জানান, “ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা এতদিন নিষিদ্ধ হয়ে আছেন, তাঁদের বিষয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হওয়া উচিত। বুম্বাদা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলবেন।” তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন কাজ থেকে দূরে থাকা শিল্পীদের কষ্ট বোঝা জরুরি। “কাজ না থাকাটা যে কতটা যন্ত্রণার, সেটা যারা এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়, তারাই বুঝতে পারে,” বলেন তিনি।

দেবের এই অবস্থান সামনে আসার পরই ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর মন্তব্য, “বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবে করা কঠিন। আমাদের কলাকুশলীরা গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের অধিকার নিয়ে লড়াই করছেন। এই বিষয়টি নতুন নয়, আগে থেকেই জানা উচিত ছিল।”

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নামও। ফেডারেশনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের পর একাংশ শিল্পী কার্যত কাজের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। অনির্বাণও সেই তালিকায় ছিলেন বলে অভিযোগ। অতীতে একটি মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের সময় তিনি অসহযোগিতার মুখে পড়েছিলেন বলেও জানা যায়।

স্বরূপ বিশ্বাস পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলেন, “নিজের ছবির প্রয়োজনে কাউকে নিতে হলে হঠাৎ করে তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখানো হচ্ছে কেন? কলাকুশলীদের অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর এই মন্তব্য যে দেবকে উদ্দেশ্য করেই, তা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে জোর জল্পনা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দেব বৈঠক শেষে সোশ্যাল মিডিয়াতেও একই বার্তা দেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “আমরা সকলে মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছি।” এই পোস্টের পর থেকেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

যদিও অতীতে দেব ও প্রসেনজিতের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির খবর সামনে এসেছিল, পরে তা মিটেও যায়। কিন্তু এবার, রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নতুন করে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এল।

একদিকে ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি তুলছে, অন্যদিকে নিষিদ্ধ শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্নমত স্পষ্ট। এখন দেখার, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সত্যিই কোনও সমাধান আসে কি না—নাকি এই বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now