ভোটের লড়াই শুরু হতেই প্রকাশ্যে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দিয়ে দেওয়া হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
২০২১ সালে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরেন মমতা। এ বারও তিনি সেই ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, ফলে আবারও সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে মমতার হাতে নগদ রয়েছে ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা। দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট জমা ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁর নামে কোনও বাড়ি বা গাড়ি নেই। এমনকি স্থাবর সম্পত্তি বা দেনা— কোনওটাই নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
পাঁচ বছর আগের ছবিটা একটু আলাদা ছিল। ২০২১ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল প্রায় ১৬ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে তা কমেছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। সেই সময় কিছু সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকলেও বর্তমানে তেমন কোনও বিনিয়োগের উল্লেখ নেই।
তবে গয়নার ক্ষেত্রে উল্টো ছবি। মমতার কাছে রয়েছে প্রায় ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম সোনা। যার বাজারদর এখন প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা— ২০২১ সালের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পেশা রাজনীতি ও সমাজসেবা। আয় আসে মূলত বইয়ের রয়্যালটি এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে।
অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রেও তাঁর নাম একেবারেই পরিষ্কার। কোনও থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর নেই, কোনও মামলাও বিচারাধীন নয়। ২০২১ সালেও একই তথ্য ছিল।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মমতার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি রয়েছে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন। মাধ্যমিক পাশের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং আইন— সবকটি স্তরই সম্পন্ন করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের ভোটযুদ্ধে নামার আগে তাঁর হলফনামা এক ধরনের ‘মিনিমালিস্ট’ জীবনযাপনের ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক লড়াই কিন্তু মোটেও সরল নয়— কারণ সামনে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের বাইরেও নজর এখন জমজমাট নির্বাচনী মোকাবিলায়।





