অবশেষে সামনে এল বহু চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদনপত্র। বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া। অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকছে। আবেদন করার জন্য মিলবে ৯০ দিনের সময়।
রাজ্যের নতুন এই প্রকল্পে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। তবে আবেদন করলেই যে টাকা মিলবে, তা নয়। ইতিমধ্যেই অর্থ দফতরের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হতে পারে। সেই কারণে প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিও।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে হলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ডিবিটি লিঙ্ক না থাকলে টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে না। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য বুধবার ফর্ম পাবলিশ হবে। এনরোলমেন্ট যত তাড়াতাড়ি করবেন তত বেনিফিট মিলবে। এই প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু হবে এদিন থেকেই। যতক্ষণ না প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলতে থাকবে।”
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত উপভোক্তাই কি নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন? সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার, বাদ পড়া ভোটার এবং এসআইআর-২০২৬ চলাকালীন অনুপস্থিত হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের নাম পুরনো প্রকল্পে থাকলেও তা সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত হবে না। অর্থাৎ তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে আবেদন করলেও যাচাই প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে।
এছাড়াও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় তালিকায় বাদ পড়া ভোটার, শুনানির পরে বাদ যাওয়া নাম, কিংবা ভোটার স্লিপ বিলির সময় মৃত বা স্থানান্তরিত হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে অর্থ দফতর।
কে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা নিয়েও কড়া শর্ত রেখেছে সরকার। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই কেবল আবেদন করতে পারবেন। তবে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মচারী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী, পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মীরাও আবেদন করতে পারবেন না। আয়করদাতা মহিলাদের ক্ষেত্রেও থাকছে নিষেধাজ্ঞা।
নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকেই প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এই প্রকল্প রাজ্যের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।






