রাজ্য বিধানসভায় যখন নতুন বিধায়কদের শপথগ্রহণ চলছে, সেই সময়ই শিয়ালদা আদালতে হাজির হলেন রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তিন জনকে গ্রেফতারের দাবি তুলে আদালতে আবেদন জানালেন তিনি। আর সেই তালিকায় রয়েছে দুই তৃণমূল নেতার নামও।
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়া রত্না দেবনাথ এদিন আদালতে গিয়ে জানান, মামলায় তিন জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। শপথগ্রহণের আগে আদালতে কেন এসেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা কোর্টে একটা পুট আপ দিয়েছি। তাই এসেছি এখানে। তিন জন সন্দেহভাজন। সেই তালিকা দিয়েছি আমরা।”
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, বর্তমান পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। রত্নার আইনজীবীর দাবি, সঞ্জীব একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে রাজনৈতিক শিবির বদলান।
মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার লড়াই থেকেই যে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু, আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দেন রত্না। তাঁর কথায়, “আগে এটাই প্রায়োরিটি। মেয়ে আমার গোটা পৃথিবী ছিল। গোটা পৃথিবী অন্য দিকে গেলেও, আমার এই জায়গাটা থাকবে। মেয়ের জন্য অন্তত।”
বুধবার বিচারক সুলতান মামুদ (Sultan Mamud)-এর এজলাসে মামলার শুনানি ছিল। সেখানে সিবিআই-এর আইনজীবী পার্থসারথি দত্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কিছুটা সময় চান। এরপর রত্না দেবনাথের আইনজীবী বলেন, “সেই সময় এই তিন জনের হঠাৎ তৎপরতা সত্যিই সন্দেহজনক। তাই আজ আমরা আবেদন করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতদিন পরে সিবিআই-ও সময় চাইল।”
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেই তিনি আরও বলেন, “এই মামলায় সময়টাই বড় ফ্যাক্টর। ঘড়ির কাঁটা তো থেমে নেই। এখন দেখার, এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে।”
জানা গিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ জুন।





