রাজ্য জুড়ে চলা ‘জনকল্যাণ শিবির’কে ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের মোট ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা এক ছাতার তলায় পৌঁছে দিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। উপচে পড়া ভিড়ের কথা মাথায় রেখে শিবিরের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ফতেপুরে একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। বর্তমানে তাঁদের তথ্য যাচাই এবং পোর্টালে আপলোড করার কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের নাম যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে, তাঁরা জুন মাসের প্রাপ্য অর্থ আগামী ১ জুলাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, “১ জুলাই ৩০০০ টাকা করে পেয়ে যাবেন। যারা এখনও বাকি আছেন, তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে ফর্ম ফিলআপ করুন।”
সরকারি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও অনেক আবেদনকারীর টাকা জমা না পড়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে।
ফতেপুরের শিবিরে ঘুরে দেখার পাশাপাশি কয়েকজন উপভোক্তার হাতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “সমস্ত প্রকল্প যাতে রাজ্যবাসী কোনও রকম দুর্নীতি ছাড়াই পেতে পারে, তা সুনিশ্চিত করছে এই সরকার।”
অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি যাঁরা, তাঁদেরও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কোনও চিন্তা করবেন না। এখনও যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। সরকারি আধিকারিকেরা সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সহযোগিতা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, আগের সরকারের আমলে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলাদের আলাদা হারে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মাসিক ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এদিকে, আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন বাজেট পেশ হওয়ার কথা। সেই বাজেটকে ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, চাকরিপ্রার্থী যুবক-যুবতী, সরকারি কর্মচারী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি রাজ্যের আগামী অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির দিকেও এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।






