রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) কার্যকর করার পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে ‘পিএম শ্রী’ স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘পিএম শ্রী’ বা ‘প্রাইম মিনিস্টার’স স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ প্রকল্প।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্প চালু করে। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সরকারি স্কুলগুলিকে ধাপে ধাপে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর ভাবনা অনুযায়ী এই স্কুলগুলিকে ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari বলেন, “রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনীতিমুক্ত করে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হবে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের পড়ুয়াদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ দিতে প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে পিএম শ্রী স্কুল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিএম শ্রী স্কুলগুলির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ। স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল বোর্ড, উন্নত বিজ্ঞানাগার, আধুনিক লাইব্রেরি এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু পাঠ্যবই নির্ভর শিক্ষা নয়, বরং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, সমস্যা সমাধান এবং ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়াদের দক্ষ করে তোলাই হবে এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামোও এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্কুলগুলিতে টেকসই উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে। সরকারের আশা, এই প্রতিষ্ঠানগুলি আশপাশের অন্যান্য সরকারি স্কুলের কাছেও মডেল হিসেবে কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে মোট ১৪,৫৯৭টি সরকারি স্কুলকে পিএম শ্রী স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুল এই প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত হয়েছে।
তবে সব স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না। নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করেই স্কুলগুলিকে নির্বাচিত হতে হবে। প্রতিটি ব্লক থেকে সর্বাধিক দুটি স্কুল— একটি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়— বাছাই করা হতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্কুলগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষার মান এবং অন্যান্য সূচক বিবেচনা করা হবে। শহরাঞ্চলের স্কুলগুলিকে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ এবং গ্রামীণ স্কুলগুলিকে ৬০ শতাংশ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
এছাড়া স্কুলগুলির জিও-ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজ্য সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন বিশেষ কমিটি।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারাও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ পাবে। ফলে শহর ও গ্রামের শিক্ষার ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।






