জনকল্যাণ শিবিরে মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে আসছে একাধিক বিভ্রান্তির ছবি। বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, যুবশক্তি প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ কিংবা অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা গুজব এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন শিবিরে সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের একাংশকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে এমন একটি তথ্যের ভিত্তিতে, যা পরে ভুল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারের ঘোষণার পর থেকেই বহু প্রবীণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে যে এক হাজার টাকার বার্ধক্য ভাতা তাঁরা পাচ্ছেন, সেটিকে দুই হাজার টাকায় উন্নীত করতে হলে নতুন করে আবেদন করতে হবে। সেই বিশ্বাস থেকেই সকাল সকাল জনকল্যাণ শিবিরে পৌঁছে যান বহু উপভোক্তা।
কিন্তু শিবিরে এসে তাঁরা জানতে পারেন, পুরনো উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কোনও নতুন আবেদন বা ফর্ম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁরা ইতিমধ্যেই বার্ধক্য ভাতার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের ভাতার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বৃদ্ধি করা হবে। নতুন আবেদনকারীদের জন্যই শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রখর গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে অনেক প্রবীণ নাগরিক অসুস্থ বোধ করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে ভুল তথ্যের জেরে অযথা হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা গিয়েছে যুবশক্তি প্রকল্প নিয়েও। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় বহু যুবক-যুবতী শিবিরে এলেও সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে অনেকেই নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও ছড়ায় আরেকটি গুজব। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, অনলাইনে আবেদন করার পর সেই আবেদনের হার্ড কপি জনকল্যাণ শিবিরে জমা দিতে হবে। সেই খবর বিশ্বাস করে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শিবিরে হাজির হন।
তবে প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদনের হার্ড কপি জমা দেওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি।
অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ফিনান্স অফিসার স্বপন কুমার বাছার বলেন, “যাঁরা ইতিমধ্যেই বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে কোনও আবেদন করার দরকার নেই। ভাতার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। নতুন আবেদনকারীদের জন্যই কেবল ফর্ম দেওয়া ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনার হার্ড কপি জমা দেওয়া বা যুবশক্তি প্রকল্প নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পৃথক নির্দেশিকা পাওয়া যায়নি।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের উপর নির্ভর না করে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার জন্য। তাতে যেমন অযথা ভোগান্তি এড়ানো যাবে, তেমনই প্রকল্প সংক্রান্ত সঠিক তথ্যও পাওয়া সম্ভব হবে।
আগামী দু’দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনকল্যাণ শিবির চলবে। সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক সহায়তা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য এবং আবেদন সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়া যাবে।






