রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। শিবির থেকে একাধিক প্রকল্পের সুবিধার পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারতের জন্যও আবেদন করা যাবে। তবে আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, আপনি বা আপনার পরিবার এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় পড়েন কি না।
আয়ুষ্মান ভারত বা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা পরিবারগুলিকে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে নগদহীন চিকিৎসার সুযোগও পাওয়া যায়।
চিকিৎসার খরচ বহনের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বিশেষভাবে সহায়ক। হাসপাতালে ভর্তি, বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, ওষুধ এবং চিকিৎসার পরবর্তী পরিষেবাও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে পরিবারের উপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করা হয় মূলত আর্থ-সামাজিক ও জাতিগত আদমশুমারির তথ্য এবং সরকারি নথির ভিত্তিতে। গ্রামীণ অঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার, বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি এবং শহরাঞ্চলের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক বা স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিজের নাম প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে কি না, তা বাড়িতে বসেই যাচাই করা সম্ভব। আয়ুষ্মান ভারতের সরকারি পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লগ-ইন করতে হবে। ওটিপি যাচাইয়ের পর আবেদনকারী নিজের যোগ্যতার তথ্য দেখতে পারবেন।
যাঁরা অনলাইনে এই কাজ করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। নিকটবর্তী জনকল্যাণ শিবির, কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) অথবা অনুমোদিত আয়ুষ্মান কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
আবেদনের সময় সাধারণত আধার কার্ড, রেশন কার্ড, মোবাইল নম্বর এবং পারিবারিক পরিচয়পত্রের মতো কিছু নথি প্রয়োজন হয়। তবে আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।
যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর আবেদনকারীর নথি যাচাই করা হয়। যাচাইকরণ সম্পূর্ণ হলে তৈরি হয় আয়ুষ্মান কার্ড। বর্তমানে এই কার্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতেও ডাউনলোড করা যায় এবং মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব। ফলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত ব্যবহার করা যায়।
জনকল্যাণ শিবিরে ভিড় করার আগে তাই একবার নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ স্বাস্থ্যসুরক্ষার এই সুবিধা মিললে চিকিৎসার বড় খরচের চিন্তা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলতে পারে।






