তৃণমূল ছেড়ে এ কোন দলে কাকলিরা! বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা ঘিরে বাড়ছে রহস্য

On: Sunday, June 14, 2026 9:43 PM
---Advertisement---

দিল্লিতে বৈঠকের পর তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, রবিবার তা আরও ঘনীভূত হল। কারণ, তাঁরা যে দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে, সেই দলের নাম দেশের রাজনৈতিক পরিসরে কার্যত অচেনা। দলটির নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। নির্বাচন কমিশনের নথিতে আবার সেটি এনসিপিএন নামেও উল্লেখ রয়েছে।

দিল্লিতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানান, পশ্চিমবঙ্গে ফিরে তাঁরা নতুন দলের সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করবেন এবং পার্টি অফিসও খোলা হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— যে দলের ব্যানারে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে চলেছেন, সেই দল আসলে কতটা সক্রিয় এবং তার রাজনৈতিক ভিত্তিই বা কোথায়?

প্রাথমিকভাবে বিদ্রোহী সাংসদদের তরফে দাবি করা হয়েছে, দলটির উৎস ত্রিপুরা। কিন্তু ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলের একাংশের কাছেও এই দলের পরিচিতি অত্যন্ত সীমিত। সে রাজ্যের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত বহু নেতাই এই দলের নাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া একটি নিবন্ধিত হলেও অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২ সাল থেকে দলটি কমিশনের নথিভুক্ত তালিকায় রয়েছে। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তারা দু’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল— উনকোটি জেলার কৈলাসহর এবং ধলাই জেলার চৌমানু কেন্দ্রে।

কৈলাসহরে দলটির প্রার্থী জাহাঙ্গির আলি পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট। চৌমানু কেন্দ্রে বড়জেদা ত্রিপুরার ঝুলিতে পড়েছিল ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ, দুই কেন্দ্র মিলিয়ে দলের মোট ভোটসংখ্যা ছিল ৮২২। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ০.০৩।

তবে দলটির সবচেয়ে বড় ধাঁধা অন্য জায়গায়। নির্বাচন কমিশনের রেকর্ডে এর ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় উল্লেখ রয়েছে। ফলে দলটি আদৌ ত্রিপুরাভিত্তিক, নাকি পশ্চিমবঙ্গ থেকেই পরিচালিত হয়, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। একইভাবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা বা বর্তমান নেতৃত্ব সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই দলকে বেছে নেওয়ার পিছনে কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। কারণ, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা যদি সংসদের ভিতরে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার পথে হাঁটতেন, তাহলে আইনি জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা ছিল।

রবিবারের ঘটনাপ্রবাহ সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক চলছিল, অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন কীর্তি আজ়াদ ও সাগরিকা ঘোষ। তাঁরা তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি স্পিকারের হাতে তুলে দেন।

সেই চিঠিতে অভিষেক স্পষ্টভাবে দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভক্ত রাজনৈতিক দল এবং সংসদের ভিতরে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বার্তার পরই বিদ্রোহী শিবির আলাদা ব্লকের পথে না গিয়ে অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার রাস্তায় এগোয়।

সূত্রের খবর, নতুন দলে যোগ দিলেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষদের অবস্থান বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সমর্থক হিসেবেই থাকবে।

তবে আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই— জাতীয় রাজনীতিতে কার্যত অচেনা একটি দল কীভাবে হঠাৎ করে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক আশ্রয় হয়ে উঠল? সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। আর সেই কারণেই এনসিপিআইকে ঘিরে কৌতূহল এবং রহস্য— দুটোই ক্রমশ বাড়ছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now