কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। সড়ক ও রেলের পাশাপাশি এবার জলপথকেও আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী Sarbananda Sonowal-এর সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের দাবি, জলপথে গণপরিবহণকে নতুন মাত্রা দিতে ওয়াটার মেট্রো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ইতিমধ্যেই কেরালার Kochi-তে এই পরিষেবা সফলভাবে চালু হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের একাধিক শহরে একই ধরনের পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কলকাতাকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে শুধু ওয়াটার মেট্রো নয়, জলপথভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রের সাগরমালা ২ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে বন্দর, শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হতে পারে।
জলপথে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক জেটি তৈরির কাজও এগোচ্ছে। রাজ্যজুড়ে ৪৪টি নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় জলপথ প্রকল্পের আওতায় আরও ২৫টি জেটি তৈরির কাজ চলছে।
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির সংস্কারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, রামকৃষ্ণঘাট এবং বাঁধা ঘাটের সৌন্দর্যায়ন ও মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগেই এই কাজ শেষ করা।
পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, Gangasagar Mela-কে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ দিন কলকাতা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখল ও অবৈধ কার্যকলাপ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য পরিবহণ ও শিপিং দপ্তরকে আলাদা করার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। তাজপুরে বন্দর প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিকল্প হিসেবে দাদনপাত্রঘাটে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত জমি রাজ্যের হাতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যাবে। তাজপুর থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই এলাকাকে ভবিষ্যতের সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো থেকে শুরু করে নতুন বন্দর, ঘাট সংস্কার এবং জলপথভিত্তিক পরিকাঠামো— সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিবহণ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার রূপরেখাই এ দিনের বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে। আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।






