নিজের বাড়ি ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে অবশেষে বড় সাফল্য পেলেন সল্টলেকের এক প্রবীণ মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারকে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সল্টলেকের একটি বাড়ি তিনি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সল্টলেকে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাড়ির মালকিন আরতি রায়চৌধুরী রাস্তায় জয়প্রকাশ মজুমদারকে দেখতে পেয়ে তাঁর সামনে প্রতিবাদে সরব হন। স্থানীয়দের একাংশও সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আরতি রায়চৌধুরী উত্তর বিধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে জয়প্রকাশ মজুমদারকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, সল্টলেকের এ-ই ৩৩৭ নম্বর বাড়িতে বহু বছর ধরে বসবাস করছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। শুধু বসবাসই নয়, ওই বাড়িকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের। বাড়ি খালি করার জন্য একাধিকবার আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি তা মানেননি বলে অভিযোগ।
আরতি রায়চৌধুরীর অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, বাড়ি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেই তাঁকে নানা ভাবে ভয় দেখানো হতো। সেই কারণে তিনি নিজের বাড়িতে থাকতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। জয়প্রকাশ মজুমদারের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা যায়নি। অবশেষে পুলিশের এই পদক্ষেপে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তৃণমূল মুখপাত্রকে বৃহস্পতিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীরা অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। মামলার অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা— সকলেরই।





