ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক। সেই বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণেও। প্রায় প্রতিদিন ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা জমা পড়ছে আদালতে। কেন সাধারণ মানুষ এত সমস্যায় পড়ছেন, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এমনকি প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের বেঞ্চে ওঠে ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত একাধিক মামলা। শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট জানান, ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রিতা গ্রহণযোগ্য নয়।
এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল, তাঁদের আবেদন শুনতেই গঠন করা হয়েছে বিশেষ ট্রাইবুনাল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে চলছে সেই প্রক্রিয়া। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, ট্রাইবুনালের কাজকর্ম নিয়ে মানুষের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের উদ্দেশে বিচারপতি পালের মন্তব্য, “এক বার চিন্তা করে দেখুন, ট্রাইবুনালে কী ভাবে কাজ চলছে! এটা একটা প্রশাসনিক কাজ। ভোটার তালিকায় নাম তোলা তো সাংবিধানিক অধিকার। দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি দেখুন।”
শুধু তা-ই নয়, ট্রাইবুনালে হাজিরা সংক্রান্ত নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বর্তমানে আবেদনকারীদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসে কেউ কী ভাবে উপস্থিত হবেন? অনলাইনে হাজিরার ব্যবস্থা নেই।”
আদালত জানতে চেয়েছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের কী অবস্থান। প্রয়োজনে ট্রাইবুনাল ব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজর আকর্ষণ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
গত অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়া। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ যাচাই অভিযানে ৯০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ যায় ভোটার তালিকা থেকে। কমিশনের দাবি, মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। ধাপে ধাপে সেই তালিকার নিষ্পত্তি হলেও বহু মানুষ এখনও ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হচ্ছেন। আর সেই প্রক্রিয়া নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট।





