বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। কিন্তু তার আগেই মাঠের বাইরের লড়াই শুরু করে দিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলি। কে কোথায় শিবির করবে, কোন পরিবেশে অনুশীলন করবে, কোন শহরের আবহাওয়ায় নিজেদের মানিয়ে নেবে— তা নিয়েই এখন ব্যস্ত বিশ্বের প্রথম সারির ফুটবল শক্তিগুলি।
বিশ্বকাপের আগে প্রায় সব দলই আয়োজক দেশের বিভিন্ন শহরে গিয়ে কয়েক সপ্তাহের বিশেষ প্রস্তুতি শিবির করে। এই সময়েই কোচেরা নিজেদের সেরা কম্বিনেশন তৈরি করেন। ঠিক হয় রণকৌশল। ফুটবলারদের ফিটনেস, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় পরিবেশে খেলার প্রস্তুতি— সব কিছুই চলে একসঙ্গে। সেই কারণেই শিবিরের জায়গা বাছাইকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিটি দেশ।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কানসাস সিটি। একসঙ্গে চারটি দল এই শহরকে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য বেছে নিয়েছে। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন করবে। লিয়োনেল মেসিদের পাশাপাশি একই শহরে শিবির করছে আলজেরিয়াও। ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসও কানসাস সিটির আলাদা পরিকাঠামো বেছে নিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে এই শহর কার্যত হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় কেন্দ্র।
অন্য দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল প্রস্তুতি নেবে ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেন্সে। ব্রাজিল বেছে নিয়েছে নিউ জার্সির কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফেসিলিটি। সেই রাজ্যেই শিবির করবে মরক্কো, সেনেগাল এবং হাইতির মতো দলও। অর্থাৎ ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক শক্তিশালী দেশ নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিচ্ছে আমেরিকার পূর্ব উপকূলকে।
ফ্রান্সের ঘাঁটি হচ্ছে বোস্টনের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়। জার্মানি অনুশীলন করবে ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্পেনের পছন্দ চ্যাটানুগার বেলর স্কুল। অর্থাৎ ইউরোপের বড় দলগুলি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এশিয়ার দেশগুলিও পিছিয়ে নেই। জাপান ন্যাশভিলে প্রস্তুতি নেবে, সৌদি আরব অনুশীলন করবে অস্টিনে। দক্ষিণ কোরিয়া শিবির করবে মেক্সিকোর গুয়াডালাজারায়। প্রথম বার বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া উজ়বেকিস্তান বেছে নিয়েছে আটলান্টাকে। ইরান আবার প্রস্তুতির জন্য সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় শিবির করছে।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডা নিজেদের ঘাঁটি করেছে ভ্যাঙ্কুভারে। আর আয়োজক আমেরিকা প্রস্তুতি নেবে আরভিনের গ্রেট পার্ক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। মেক্সিকো অনুশীলন করবে মেক্সিকো সিটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রেনিং সেন্টারে।
চমক রয়েছে আরও। অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ে একই অঞ্চলে শিবির করছে সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায়। কাতার আবার ক্যালিফোর্নিয়ার কলেজ ক্যাম্পাসকে বেছে নিয়েছে। উরুগুয়ে অনুশীলন করবে ক্যানকানে। সুইডেন, চেচিয়া, স্কটল্যান্ড, সুইৎজারল্যান্ড, নরওয়ে— প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে আলাদা পরিবেশ বেছে নিয়েছে প্রস্তুতির জন্য।
বিশ্বকাপের আগে এই শিবিরগুলি শুধু অনুশীলনের জায়গা নয়, বরং এক একটি ‘গোপন যুদ্ধঘাঁটি’। কারণ দলগুলি চাইছে, প্রতিপক্ষ যেন তাদের কৌশলের আঁচ না পায়। তাই অনুশীলনের সূচি থেকে শুরু করে ফুটবলারদের ব্যবস্থাপনা— সব কিছুতেই থাকছে কড়া গোপনীয়তা।
এখন দেখার, যে শহরগুলিকে দলগুলি নিজেদের সৌভাগ্যের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিল, সেগুলিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সাফল্যের মঞ্চ হয়ে ওঠে কি না।








