জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ এ বার যেন শুধু ঋতুর স্বাভাবিক রূপে আটকে নেই। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তাপমাত্রার পারদ এমনভাবে চড়ছে, যেন সূর্য আরও কয়েক ধাপ কাছে চলে এসেছে। উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান থেকে শুরু করে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা— দেশের বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত আগুনের চাদরে ঢেকে গিয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির বিশেষ বদল হবে না, বরং উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের অনেক জায়গাতেই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মৌসম ভবন।
দু’দিন আগেই উত্তরপ্রদেশের বন্দীতে তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দিল্লিতেও দিনের তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। শুধু দিনের গরমই নয়, রাতের অস্বাভাবিক উষ্ণতাও এখন বড় চিন্তার কারণ। দিল্লিতে রাতের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি। ফলে রাতেও মিলছে না স্বস্তি। আবহবিদদের মতে, এই ‘ওয়ার্ম নাইট’ পরিস্থিতি শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডেও একই ছবি। কোথাও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির গণ্ডি ছুঁইছুঁই, কোথাও আবার দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের জেরে জারি হয়েছে কমলা বা লাল সতর্কতা। আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যায়, হলুদ সতর্কতা মানে টানা দু’দিন গরমের দাপট বজায় থাকবে। কমলা সতর্কতা বোঝায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর, আর লাল সতর্কতা মানে দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ চলবে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং দিল্লিতে অন্তত ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। পশ্চিম রাজস্থানে ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত গরমের তীব্রতা থাকবে চরমে। পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, তেলঙ্গানা, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডেও আগামী কয়েক দিন স্বস্তির সম্ভাবনা কম।
এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার বিশ্বের উষ্ণতম শহরের তালিকায় এক নজির গড়েছে ভারত। AQI.in-এর লাইভ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে গরম ১০০টি শহরের সব ক’টিই ছিল ভারতের। তালিকায় ছিল নয়াদিল্লি, ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গ্বালিয়র, কোটা, রায়পুরের পাশাপাশি হিমালয়ের পাদদেশের হরিদ্বারের মতো শহরও।
তবে দেশের সব অংশে একই ছবি নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে বরং বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা এবং মিজ়োরামে আগামী কয়েক দিন ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, উত্তর ভারত এবং হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে একটি শক্তিশালী পশ্চিমি ঝঞ্ঝা তৈরি হয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের উপর বিস্তৃত মেঘবলয় ধীরে ধীরে হিমালয় ও উত্তর ভারতের দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাবে কিছু এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
কলকাতার অবস্থাও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শহরে আপাতত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। বিচ্ছিন্নভাবে দু’-এক পশলা বৃষ্টি হলেও তাতে গরম কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৬ ডিগ্রিতে। তবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।





