এক দিকে বর্ষা দ্রুত এগোচ্ছে বঙ্গোপসাগরের দিকে, অন্য দিকে দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে গরমের দাপট। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ইতিমধ্যেই পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নির্ধারিত সময়েরও প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।
সাধারণত জুনের শুরুতে কেরলে বর্ষা ঢোকে। কিন্তু এ বছর তার আগাম উপস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে। গত ১৬ মে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে বর্ষা আন্দামানের কিছু অংশে পৌঁছেছিল। মাত্র দু’দিনের মধ্যে পুরো আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান সাগর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চলে এসেছে।
তবে বর্ষার এই অগ্রগতির সরাসরি স্বস্তি এখনই মিলছে না দক্ষিণবঙ্গে। আগামী সাত দিন গরম ও আর্দ্রতার জোড়া অস্বস্তি বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস। কলকাতায় তাপমাত্রা আপাতভাবে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ‘ফিল লাইক’ তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
এর মধ্যেই কিছু জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার ও বুধবার নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে পারে।
তবে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি আনবে না বলেই ইঙ্গিত আবহাওয়াবিদদের। বৃহস্পতিবারের পর থেকে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে, কিন্তু গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে তেমন রেহাই মিলবে না।
উত্তরবঙ্গে ছবিটা কিছুটা আলাদা। সেখানে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হতে পারে। দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত একাধিক জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি হয়েছে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ঝড়বৃষ্টির দাপট বেশি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।





