‘বেড নেই’ বলে ফেরানো যাবে না রোগী, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

On: Friday, May 15, 2026 10:26 PM
---Advertisement---

সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার সরাসরি প্রশাসনিক বৈঠকের কেন্দ্রে। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানো, বেড না পেয়ে ভোগান্তি, মাঝপথে রোগীর মৃত্যুর মতো ঘটনাকে আর বরদাস্ত করা হবে না— স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

শুক্রবার SSKM Hospital-এ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার ১২টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপার, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর্তা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় পর্যালোচনা বৈঠক।

বৈঠকে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ন্যূনতম সুযোগ থাকলেও কোনও রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। তাঁর নির্দেশ, শয্যা খালি থাকলে রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ভর্তি নিতেই হবে। পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হলে আগে নিশ্চিত করতে হবে, সেখানে বেড রয়েছে কি না। শুধু “রেফার” লিখে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলা চলবে না বলেও বার্তা দেন তিনি।

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, প্রভাব খাটিয়ে বা ফোন করে বেডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে। এদিন সেই সংস্কৃতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং রোগীর অবস্থাই হবে ভর্তি নেওয়ার একমাত্র মাপকাঠি।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, রোগী ভর্তির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাসপাতালভিত্তিক বেডের তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে কত শয্যা খালি রয়েছে, তা জনসমক্ষে স্বচ্ছ ভাবে তুলে ধরতে হবে। জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশও দীর্ঘদিন ধরে একটি কেন্দ্রীয় রেফারেল ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এদিনের বৈঠকে রাজনৈতিক এবং চিকিৎসক মহলের প্রতিনিধিত্বও ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জয়ী চিকিৎসক বিধায়ক Shardwata Mukhopadhyay এবং Indranil Khan। পাশাপাশি ছিলেন Chittaranjan National Cancer Institute-এর কর্তৃপক্ষও।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে জেলার গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবার, যাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতার সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন, তাঁদের কাছে এই বৈঠকের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now