দলের হার হলেও ইন্ডাস্ট্রির জয়, ভোটে হেরে জেতেই তৃণমূলকে খোঁচা দেবের?

On: Wednesday, May 6, 2026 8:49 PM
---Advertisement---

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের অন্দরে যেমন অনিশ্চয়তা, তেমনই নতুন সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে। সেই সুরই শোনা গেল সাংসদ-অভিনেতা দেব-এর কথায়। দলের পরাজয় তাঁকে আঘাত দিলেও, বদলে যাওয়া পরিস্থিতিকে তিনি একেবারে অস্বীকার করছেন না। বরং কিছু ক্ষেত্রে আশার আলো দেখছেন।

ফল ঘোষণার পর দেব স্পষ্ট জানালেন, টলিউডে কাজের পরিবেশ বদলানো প্রয়োজন ছিল। তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপর জোর করে নিয়ম চাপানো যাবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে।” তিনি মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে কাজের সুযোগ বাড়বে এবং বাইরের প্রযোজনাও বাংলায় আসতে পারে।

তবে এই আশার মাঝেও রয়েছে সতর্ক বার্তা। দেব বলেছেন, “যদি আগের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাল হবে।” নতুন ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, শিল্পের বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবেই বাংলা সিনেমা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

রাজনৈতিক জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে দেব স্পষ্ট বলেন, “এই ধরনের রাজনীতিতে আমি বিশ্বাসী নই। রাজনীতি না করলেও আমার জীবন চলবে।” তাঁর দাবি, তিনি মূলত অভিনেতা, রাজনীতিতে আসা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুরোধে।

এদিন নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, টলিউডে একসময় মতাদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিল্পীদের কাজ থেকে দূরে রাখা হত। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন। মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার বা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করার উদাহরণ তুলে ধরে দেব বলেন, “আমি আগে অভিনেতা, তারপর রাজনীতিবিদ।”

ইন্ডাস্ট্রির সংগঠন নিয়েও তাঁর অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। ইম্‌পা নিয়ে চলা বিতর্কে তিনি সরাসরি পক্ষ নেননি। বরং জানিয়েছেন, “আমি নিরপেক্ষ থাকব। যাঁরা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন, তাঁরাও তাঁদের অধিকার চাইবেন— সেটা স্বাভাবিক।”

এরই মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে দেবকে। ফল ঘোষণার দিনই তাঁর প্রিয় পোষ্যের মৃত্যু তাঁকে নাড়িয়ে দেয়। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই কষ্ট বলে বোঝানো যায় না।” তবে কুসংস্কারে বিশ্বাসী নন বলেও স্পষ্ট করেছেন।

সব মিলিয়ে দেবের বক্তব্যে একদিকে যেমন রয়েছে দলের পরাজয়ের আঘাত, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে পরিবর্তনের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত। রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝেও তিনি যেন আবার নিজের পুরনো পরিচয়ে ফিরে যেতে চাইছেন— একজন অভিনেতা হিসেবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now