করোনা অতিমারির সময় জরুরি পরিষেবা হিসেবে যে ই-ফার্মেসি ব্যবস্থার সূচনা, তা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বাড়িতে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ওষুধ অর্ডার—এই সুবিধায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন বহু মানুষ। কিন্তু সেই ব্যবস্থাকেই এবার চ্যালেঞ্জ জানাল দেশের ওষুধ ব্যবসায়ীদের বৃহত্তম সংগঠন অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (এআইওসিডি)। তাদের অভিযোগ, অনলাইন ওষুধ বিক্রির লাগামছাড়া বিস্তার বাজারে অনিয়ম বাড়াচ্ছে এবং প্রভাব ফেলছে ব্যবসার ওপরও। এই প্রেক্ষিতেই আগামী ২০ মে দেশজুড়ে একদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কারণ নয়, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের বক্তব্য, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুয়ো প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ওষুধ সুরক্ষা বিধি কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও একটি বড় অভিযোগ উঠেছে ওষুধের দামের বিষয়ে। সংগঠনের দাবি, বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ইচ্ছেমতো দাম কমাচ্ছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হলেও, সেই সঙ্গে ওষুধের গুণগত মান নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এছাড়াও, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে বাড়ি-বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটিকেই বর্তমানে ই-ফার্মেসির প্রসারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সংগঠনের মতে, সেই বিশেষ পরিস্থিতির নির্দেশিকা এখনও কার্যকর রেখে দেওয়া হয়েছে, যা এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।
এই তিনটি মূল দাবিকে সামনে রেখেই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কোনও সমাধান মেলেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথেই হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
এই ধর্মঘটের ফলে একদিনের জন্য দেশজুড়ে ওষুধের দোকান বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের উপরেই। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, এই আন্দোলনের জেরে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয় কি না।





