দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। স্ক্রুটিনির পর কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৫টি বুথে ফের ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র-এর ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্র-এর ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
গত বুধবার দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। সেই দিন এই দুই কেন্দ্র-সহ একাধিক জায়গা থেকে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান বিভিন্ন প্রার্থী। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান সুব্রত গুপ্ত। তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, স্ক্রুটিনি চলাকালীন আরও বিস্তৃত পরিসরে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাবও উঠে আসে। বিশেষ করে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র-এর একাধিক বুথ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। যদিও এখনও পর্যন্ত ফলতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি কমিশন।
ফলতাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ভোটের দিন একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। কিছু বুথে ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, আবার কোথাও ক্যামেরা বন্ধ থাকার কথাও জানা যায়। নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে এই সংক্রান্ত তথ্য কন্ট্রোল রুমে পৌঁছায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলি কমিশনের নজরে আসে এবং সেগুলিই স্ক্রুটিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
এদিকে বিরোধী শিবিরের তরফেও ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়েছে। বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ফলতার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুনর্নির্বাচন হওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ডায়মন্ড হারবারেও ঘোষিত ৪টি বুথের বাইরেও আরও কিছু জায়গায় সমস্যা ছিল।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুনর্নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ—দুই-ই সামনে নিয়ে এসেছে। আপাতত নজর শনিবারের ভোটগ্রহণে, পাশাপাশি ফলতা নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত অবস্থানের দিকেও তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





