বৈশাখের দাবদাহে কার্যত নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ। সকাল গড়াতেই তাপমাত্রার তীব্রতা এমন জায়গায় পৌঁছচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরোলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শুধু দিনের বেলাই নয়, রাতেও গরমের দাপটে স্বস্তি মিলছে না। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে যাঁদের শরীর দুর্বল বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ রয়েছে।
মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দু মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস। শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলে এটি ঘাম তৈরি এবং রক্তনালির প্রসারণের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ প্রখর রোদে থাকলে বা শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে এই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। তখনই হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর অবস্থা তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, শরীরের তাপমাত্রা যদি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা বিপজ্জনক। মাথা ঘোরা, বমি ভাব, চরম দুর্বলতা, বিভ্রান্তি—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়? চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলেন, “হিটস্ট্রোকে আক্রান্তকে শুধু এসি ঘরে রাখলেই হবে না। বরং ঠান্ডা জলে স্নান করানো বা শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় আইসপ্যাক ব্যবহার করলে বেশি উপকার মেলে।”
সতর্কতার জায়গায় বিশেষ জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বেরোতেই হলে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার এবং মুখ ঢেকে রাখা জরুরি। সঙ্গে পর্যাপ্ত জল রাখা বাধ্যতামূলক।
গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু জল নয়, নিয়মিত ইলেকট্রোলাইট পানীয়, লেবু-নুন-চিনির জল, কিংবা ঘরোয়া শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডাবের জল, লস্যি বা ছাতুর শরবতও শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর।
দৈনন্দিন অভ্যাসেও পরিবর্তনের কথা বলছেন চিকিৎসকরা। দিনে অন্তত দু’বার স্নান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং গরম থেকে এসে হঠাৎ ঠান্ডা জল না খাওয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তাপপ্রবাহের এই সময়ে সতর্ক থাকাই একমাত্র উপায়। কারণ অবহেলা করলে সাধারণ অস্বস্তি থেকে পরিস্থিতি মুহূর্তে জীবনহানির ঝুঁকিতেও পৌঁছে যেতে পারে।





