দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের ধাক্কা কাটার আগেই নতুন করে অস্বস্তিতে আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party)। দলের অন্দরেই ফাটল যে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত মিলল রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)-র বক্তব্যে। দীর্ঘ ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে দল ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি—এই পথেই হাঁটতে পারেন আরও একাধিক সাংসদ।
শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে চাড্ডা সরাসরি জানান, তিনি দল ছাড়ছেন এবং শীঘ্রই ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-তে যোগ দেবেন। তাঁর কথায়, “আমার নিজের দলই আমার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ঠিক মানুষ হলেও ভুল দলে ছিলাম।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।
দলত্যাগের নেপথ্যে কারণ হিসেবে চাড্ডা ইঙ্গিত করেছেন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দিকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। সেই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় অশোক মিত্তল (Ashok Mittal)-কে। তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে এখন সেই মিত্তলও দল ছাড়ার পথে বলে দাবি করেছেন চাড্ডা নিজেই।
চাড্ডার অভিযোগ, দল তার মূল আদর্শ থেকে সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, “গত ১৫ বছর ধরে আপের জন্য রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছি। কিন্তু এখন দল দেশের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কাজ করছে। অনেক দিন ধরেই মনে হচ্ছিল, আমি ভুল জায়গায় রয়েছি।”
এই সম্ভাব্য ভাঙন শুধু চাড্ডাতেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও জল্পনা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সন্দীপ পাঠক (Sandeep Pathak) এবং অশোক মিত্তল-এর পাশাপাশি আরও কয়েকজন সাংসদ বিজেপির পথে হাঁটতে পারেন। সেই তালিকায় উঠে আসছে হরভজন সিং (Harbhajan Singh), বিক্রম সাহানি (Vikram Sahney), রাজেন্দর গুপ্তা (Rajender Gupta) এবং স্বাতী মালিওয়াল (Swati Maliwal)-এর নামও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তা হলে তা অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)-এর নেতৃত্বে আপের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা শক্ত করার যে প্রচেষ্টা আপ চালাচ্ছিল, সেই প্রক্রিয়ায় এই ভাঙন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
এখন নজর একটাই—চাড্ডার ঘোষণার পর আদৌ কতজন সাংসদ দল ছাড়ার পথে হাঁটেন, আর এই ধাক্কা সামাল দিতে আপ নেতৃত্ব কী কৌশল নেয়।





