সকাল গড়াতেই লম্বা লাইন। গ্রাম থেকে শহর—একই ছবি। কার্যত উৎসবের আবহে ভোট দিলেন মানুষ। আর তার ফলেই স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ দেখল অভূতপূর্ব ভোটদানের রেকর্ড। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড তৈরি করল।
সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ভোটের হার ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর পরেই রয়েছে বীরভূম এবং জলপাইগুড়ি, যেখানে ৯৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশেরও বেশি। দক্ষিণের জেলাগুলির মধ্যেও পিছিয়ে নেই কেউ— ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া-তে প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটদান হয়েছে।
রাজ্যের ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৬ শতাংশ বা তারও বেশি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই বিপুল অংশগ্রহণকে অনেকেই ‘ভোটের সুনামি’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
কেন এই নজিরবিহীন ভোট? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। প্রথমত, SIR-এর পর এটাই প্রথম নির্বাচন। ফলে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা থেকে বহু মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বিপুল ভোটদান অনেক সময় তীব্র সরকারবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়—এমন মতও রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভোটার তালিকা তুলনামূলক স্বচ্ছ হওয়ায় মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগে আরও আগ্রহী হয়েছেন।
পরিসংখ্যানও সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে কখনও ভোটের হার এতটা উঁচুতে পৌঁছয়নি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৪.৭২ শতাংশ। ২০১৬-তে তা ছিল ৮৩ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮২ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনগুলিতেও হার সাধারণত ৮০ শতাংশের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে। সেই সমস্ত রেকর্ড এক ধাক্কায় ছাপিয়ে গেল এবারের ফলাফল।
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোটদান হল এবারের নির্বাচনে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর প্রত্যেক ভোটারকে স্যালুট।”
সব মিলিয়ে, এই বিপুল ভোটদান কেবল সংখ্যার নিরিখেই নয়, রাজনৈতিক তাৎপর্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর ফলাফলের দিকে—এই জনস্রোত কোন দিকে ইঙ্গিত করছে, সেটাই দেখার।





