ভারতীয় সঙ্গীত জগত যেন হঠাৎই এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)-এর প্রয়াণ শুধু একটি কণ্ঠের অবসান নয়, বরং এক দীর্ঘ স্বর্ণযুগের ইতি টানল। কিন্তু শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই সামনে আসছে আর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— তাঁর বিপুল সম্পত্তির ভবিষ্যৎ কী?
বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, গায়িকার মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই সম্পদের পরিধি শুধু গান বা রয়্যালটিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে রয়েছে মুম্বই ও পুনেতে ছড়িয়ে থাকা একাধিক বিলাসবহুল আবাসন, আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গড়ে ওঠা আর্থিক ভিত্তি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে দীর্ঘদিন ধরেই গায়িকার ব্যবসায়িক দিকগুলি দেখাশোনা করতেন। সেই কারণেই সম্পত্তির বড় অংশ তাঁর হাতেই যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেই যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মধ্যে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে Asha Bhosle-এর আর্থিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তাঁর সংগীতজীবন। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার গান গেয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তারই প্রতিফলন এই বিপুল সম্পদ। উল্লেখযোগ্য বিষয়, কেরিয়ারের শুরুর দিকে প্লেব্যাক শিল্পীদের জন্য রয়্যালটির প্রথা তেমন ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কাঠামো বদলেছে, এবং তাঁর গাওয়া বহু গানের রয়্যালটি তাঁর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে ওঠে।
শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ২০০২ সালে দুবাইয়ে শুরু হওয়া তাঁর রেস্তোরাঁ চেইন ‘Asha’s’ আজ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ব্রিটেন— একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকা এই ব্যবসা তাঁর দূরদর্শিতার প্রমাণ দেয়।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি যে আর্থিক ও পেশাগত সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ উত্তরাধিকার সূত্রে নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে যাওয়ার পথে। তবে সংখ্যার হিসেবে মাপা যায় না এমন একটি সম্পদ তিনি রেখে গিয়েছেন— তাঁর গান। যে সুর প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছুঁয়ে যাবে, সেটাই হয়তো তাঁর প্রকৃত উত্তরাধিকার।







