অবশেষে জয়ের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। দীর্ঘ সাত ম্যাচের হতাশার পর ইডেন গার্ডেন্সে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারাল তারা। কিন্তু স্কোরবোর্ডে জয় এলেও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে স্বস্তি ফেরেনি। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দু’বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতেছে কেকেআর, আর সেই জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে রিঙ্কু সিংহ।
মাঝের সারিতে নামলেও চাপে ভেঙে পড়েননি রিঙ্কু। ধীর শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন। ৩৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংস, পাঁচটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো, কেকেআরের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তবে এই ইনিংসের মাঝেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত— রবীন্দ্র জাডেজার বলে নান্দ্রে বার্গারের সহজ ক্যাচ ফসকানো— ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই জীবনদানের সুযোগটাই কাজে লাগান রিঙ্কু।
তার পাশে সমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান অনুকূল রায়ের। ১৬ বলে ২৯ রানের দ্রুত ইনিংস না এলে ম্যাচ জেতা কার্যত অসম্ভব হয়ে যেত। শেষের দিকে এই জুটি কেকেআরকে টেনে তোলে পরাজয়ের দোরগোড়া থেকে।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল একেবারেই আলাদা গল্প। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে কেকেআর। টিম সেইফার্ট প্রথম বলেই আউট হন। অজিঙ্ক রাহানে দ্বিতীয় বলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন অদ্ভুত শট খেলতে গিয়ে। ক্যামেরন গ্রিনের রান আউট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ব্যাটিং অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আবারও সামনে আসে এই ম্যাচে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থানের ইনিংসের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। ১৫ বছরের এই ক্রিকেটার ২৮ বলে ৪৬ রান করে ইডেনের দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং, একাধিক বাউন্ডারি, এমনকি অভিজ্ঞ বোলারদেরও আক্রমণ— সব মিলিয়ে ম্যাচের প্রথম ভাগে আলো কেড়েছিলেন তিনিই। শেষ পর্যন্ত বরুণ চক্রবর্তীর বলে থামলেও নিজের ছাপ রেখে যান।
তবু ম্যাচের বড় প্রশ্ন উঠে আসছে কেকেআরের কৌশল ঘিরে। স্পিন সহায়ক পিচে অনুকূল রায়কে বল না দেওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই। যেখানে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইন কার্যকর ছিলেন, সেখানে অনুকূলের মতো স্পিনারকে ব্যবহার না করা নিয়ে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিবর্তে রমনদীপ সিংহের মতো অনভিজ্ঞ বোলারকে ব্যবহার করা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা থামছে না। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিং পরিবর্তন হোক বা দল সাজানো— বারবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্পিনারদের সাহায্য পাওয়া পিচেও সেই দিকটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে কেকেআর।
শেষ পর্যন্ত জয় এলেও এই ম্যাচ কেকেআরের দুর্বলতাগুলিকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। ব্যাটিংয়ের অস্থিরতা, বোলিং পরিকল্পনার অসংগতি এবং ফিল্ডিংয়ের ভুল— সব মিলিয়ে দলের সামনে এখনও বহু কাজ বাকি। রিঙ্কু সিংহের ব্যাট না চললে এই ম্যাচের ফল যে অন্যরকম হতে পারত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।







