স্বামীর মৃত্যুর পর অবশেষে মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাশে থাকার জন্য, একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার দিকে। তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ জানাই সকলকে, এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের—একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালবাসায়।”
টলিউডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল গত ২৯ মার্চ, যখন শ্যুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে তলিয়ে প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ধারাবাহিকের আউটডোর শ্যুট চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। কাজের মধ্যেই এমন মৃত্যু শিল্পীমহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক শিল্পীর অভিযোগ, শ্যুটিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে তালসারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রিয়াঙ্কা।
নিজের পোস্টে ইন্ডাস্ট্রির ঐক্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। লিখেছেন, “এখানে কোনও বিভাজন নেই, কোনও রাজনৈতিক রং নেই, নেই কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য—আমরা একটি পরিবার।”

রাহুলকে ঘিরে মানুষের ভালবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে।”
তবে শুধুই আবেগ নয়, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, “এই অকাল প্রয়াণ যেন নিছক একটি শোকের স্মৃতি হয়ে না থাকে, এটি যেন আরও বড় কোনও পরিবর্তনের সূচনা করে। আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই—ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।”
এই ঘটনার পর টলিউডে শ্যুটিং সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আউটডোর শ্যুটে নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
রাহুলের মৃত্যু কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে গাফিলতি—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তবে প্রিয়াঙ্কার বার্তা স্পষ্ট, এই শোক যেন পরিবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ হয়।






