অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শিল্পীদের, রাহুলের মৃত্যুতে বড় সিদ্ধান্ত টলিপাড়ার 

On: Sunday, April 5, 2026 9:10 PM
---Advertisement---

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-এর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে টলিপাড়া। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি আন্দোলনের পথে হাঁটলেন শিল্পীরা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকবে সমস্ত শুটিং।

রবিবার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে অভিনেতাদের সংগঠনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় , ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তী-সহ একাধিক পরিচিত মুখ।

শনিবারের প্রতিবাদ মিছিলের পর রবিবার ফের একজোট হয়ে শিল্পীরা কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিলেন—নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কাজ নয়। এর আগে একই দিনে রিজেন্ট পার্ক থানায় আর্টিস্ট ফোরামের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাতেই তালসারিতে গিয়ে পৃথক এফআইআর করেন অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar)।

রবিবারের বৈঠকের পর শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল আমরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলাম আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে। আমরা রাহুলের পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এই আন্দোলন কেবল প্রতিবাদ নয়, নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইও। তাঁর কথায়, “নিরাপত্তার জন্য এবং আমাদের সকলের জীবন রক্ষার জন্য এই লড়াই শুরু হল। আমরা শুটিংয়ে বেরোচ্ছি। কিন্তু ফিরতে পারব কি না বুঝতে পারি না।”

শিল্পীদের এই কর্মবিরতির ডাকে সমর্থন জানিয়েছে টেকনিশিয়ানদের সংগঠনও। ফেডারেশনের তরফে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাইনি। কিন্তু দায় নিতে কেউ এগিয়ে আসছে না। শুটিংয়ের প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেক কিছু করতে হয়। কখনও নদী, কখনও সমুদ্র, কখনও পাহাড়—সব জায়গায় যেতে হয়। প্রত্যেকে জীবন সংশয় করে এগিয়ে যান।”

একই সুর শোনা গিয়েছে প্রসেনজিতের গলায়ও। তিনি বলেন, “শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যেকের কাজের সময়ে সুরক্ষা দরকার। নিরাপত্তা যেন সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হয়। কারণ, প্রত্যেকে এই ঘটনা নিয়ে খুব ভীত।”

ঘটনার পর নতুন কিছু দাবি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিটি শুটিং সেটে অ্যাম্বুল্যান্স রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব উঠেছে। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। ও যে ভাবে চলে গেল তা কাম্য নয়। ও আমাদের সকলকে একজোট করে চলে গেল। ওর মৃত্যুই এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, ‘আমরা কি আদৌ নিরাপদ?’”

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োতে জড়ো হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সকলকে উপস্থিত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, “প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলী সকলকে এই দিন সকালে আসতে বলব। দুর্ঘটনা আকস্মিকই হয়। তবে এমন কিছু নিয়মাবলি থাকতে হবে যাতে শিল্পীর মর্যাদা এবং তাঁর পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।”

এই পরিস্থিতিতে বড়পর্দা ও ছোটপর্দা—দুই ক্ষেত্রেই শুটিং কার্যত থমকে যেতে চলেছে। যেসব ধারাবাহিকের পর্যাপ্ত ‘ব্যাঙ্ক’ নেই, সেগুলির সম্প্রচার নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শিল্পীদের বক্তব্য স্পষ্ট—রাহুলের মৃত্যুর বিচার যেমন দরকার, তেমনই দরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now