রাত তখন প্রায় এগারোটা ছুঁইছুঁই। ওড়িশার তালসারি থানার সামনে থমথমে পরিবেশ। সেই সময়ই সেখানে পৌঁছন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টলিউডের দুই পরিচিত মুখ—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কিছুক্ষণ থানার ভিতরে থাকার পর মাঝরাতে বেরিয়ে আসেন তাঁরা।
বাইরে অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন প্রসেনজিৎ। তিনি বলেন, “রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এফআইআর দায়ের করেছেন। বিস্তারিত অনলাইনে পাওয়া যাবে।”
এই পদক্ষেপের আগে শনিবার সকালেই কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে একটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রযোজনা সংস্থা Magic Moments Motion Picture Pvt. Ltd.। অভিযোগে সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ অন্যদের নামও উঠে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শুটিংয়ের সময় পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করানো হয়েছে। যার জেরেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত ২৯ মার্চ। ওই দিন তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই ঘটে বিপত্তি। সেখানেই প্রাণ হারান রাহুল। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জলে ডুবে মৃত্যুর ইঙ্গিত মিললেও, কীভাবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হল তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই অস্পষ্টতার মধ্যেই সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন—শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ছিল? কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি? আর সেই কারণেই কি এই মৃত্যু?
উত্তর খুঁজতেই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে টলিউডের একাংশও। এখন নজর তদন্তের দিকে—রাহুলের মৃত্যুর আসল কারণ কী উঠে আসে, সেটাই দেখার।






