এক দিনের ব্যবধানে বদলে গেল টালিগঞ্জের স্টুডিয়োপাড়া। যেখানে প্রতিদিন আলো, ক্যামেরা আর ব্যস্ততার শব্দে মুখর থাকে মুভিটোন স্টুডিও, সেই চেনা ছন্দে আচমকাই পড়ল বিরতি। রবিবার বিকেলে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ পৌঁছনোর পর থেকেই কার্যত থমকে যায় কাজ।
সোমবার স্টুডিয়োর দরজা খুললেও শুটিং হয়নি কোনও ধারাবাহিকের। একাধিক ফ্লোরে যেখানে একসঙ্গে চলত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ এবং ‘চিরসখা’র শুটিং, সেখানে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা। ইউনিটের এক সদস্যের কথায়, “সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, কাজের পরিবেশই ছিল না।”
তবে সেই স্থবিরতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মঙ্গলবার থেকেই আবার ক্যামেরা ঘুরতে শুরু করেছে ‘চিরসখা’র সেটে। আনন্দবাজার অনলাইন-কে অভিনেত্রী শিঞ্জিনী চক্রবর্তী বলেন, “বুধবার আমি শুটিংয়ে এসেছি।” তাঁর কথায়, ধীরে ধীরে কাজের গতি ফিরছে, যদিও আগের মতো স্বাভাবিক পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে, প্রশ্নের মুখে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র ভবিষ্যৎ। একই স্টুডিয়োর অন্য ফ্লোরে শুট হওয়া এই ধারাবাহিকের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিকটির সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী রেশমি সেন আনন্দবাজার অনলাইন-কে জানিয়েছেন, “আমার সঙ্গে এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক অভিনেত্রীও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
যদিও রেশমির স্টুডিয়োতে অনুপস্থিতির পেছনে অন্য কারণও রয়েছে। ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে তাঁর কোনও দৃশ্য না থাকায় গত কয়েক দিন স্টুডিয়োতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি বলেই জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা টালিগঞ্জের ব্যস্ত স্টুডিয়োপাড়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যেখানে কাজ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, অন্যদিকে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে। এখন দেখার, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ কবে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরে আসে।






