অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার মাঝেই অবশেষে মুখ খুলল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। ঘটনার তিন দিন পর প্রকাশ্যে এল একটি বিস্তারিত বিবৃতি, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়েছে।
তালসারিতে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনার পর থেকে পরপর অসংলগ্ন তথ্য সামনে আসায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। প্রোডাকশন টিমের সদস্যদের বক্তব্যেও মিল না থাকায় অভিনেতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রির সংগঠন আর্টিস্টস ফোরাম নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।
এই প্রেক্ষাপটে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল তা জানার জন্য ইতিমধ্যেই শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়েছে। তবে প্রত্যেকেই মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাহুলের পরিবার বা আর্টিস্টস ফোরামের প্রতিনিধিকে যুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি, সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, “রাহুলকে যখন জল থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন তিনি বেঁচে ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টাও করছিলেন, যদিও স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। এরপর তাঁকে ডাঙায় তুলে শরীর থেকে জল বের করার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রচেষ্টা চালানো হয়। নিকটস্থ এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেসময়ে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। ফলত, রাহুলকে আবার দীঘা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। যেখানে ওঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছিল— ঠিক কতক্ষণ জলের তলায় ছিলেন অভিনেতা, যার ফলে তাঁর ফুসফুসে জল ও বালি ঢুকে যায়। নতুন এই বিবৃতি সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
ঘটনার সময় সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বইয়ে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত কলকাতায় ফিরে এসে রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। যদিও সেই সময় পরিবারের সদস্যরা কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে চাপে পড়েছেন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-ও। সংস্থার তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেবল ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নন। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত যাতে নিরপেক্ষভাবে হয়, সেজন্য তিনি রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন।
পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তবে নতুন করে উঠে আসা তথ্য এই রহস্য আরও ঘনীভূত করল বলেই মত শিল্পমহলের একাংশের।






