দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় পদক্ষেপ নিল কংগ্রেস। ২৯৪টির মধ্যে ২৮৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল হাত শিবির। মনোনয়ন জমা শুরুর ঠিক আগের দিন এই তালিকা প্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বহরমপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে দলের অন্যতম পরিচিত মুখ অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)-কে। মালদহের মালতীপুরে লড়াইয়ে নামছেন প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর (Mausam Benazir Noor)। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় ফের আস্থা রাখা হয়েছে আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টরের উপর।
কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতেও নজরকাড়া প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। বালিগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত নেতা সোমেন মিত্র (Somen Mitra)-র পুত্র রোহন মিত্র। ভবানীপুরে লড়বেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। নন্দীগ্রামে দলের তরুণ মুখ শেখ জরিয়াতুল হোসেনকে সামনে এনেছে কংগ্রেস। রাসবিহারীতে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়কে।
২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিধায়ক থাকা একাধিক নেতাকেও ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জে মোহিত সেনগুপ্ত, চাঁচলে অসিফ মেহবুব এবং হরিশ্চন্দ্রপুরে মোস্তাক আলম—এই তালিকায় রয়েছেন পরিচিত কয়েকটি নাম। অন্যদিকে, দলবদল করে আসা নেতাদের মধ্যেও সুযোগ পেয়েছেন কেউ কেউ। ইটাহার কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে অমল আচার্যকে, যিনি আগে তৃণমূল ও বিজেপির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তবে সব আসনে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কংগ্রেস। ১০টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় সূত্রে খবর, অন্য দল থেকে টিকিট না পাওয়া কিছু বিধায়ক কংগ্রেসে প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছেন। সেই আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই এই দেরি।
আরও একটি বিষয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar)-এর নাম নেই তালিকায়। ২০২১ সালে তিনি শ্রীরামপুর থেকে লড়েছিলেন। এ বার সেই আসনেও এখনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। ফলে তিনি আবারও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। সেই পর্যায়ের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে সোমবার থেকেই। তার ঠিক আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে সংগঠনের ভিত মজবুত করার বার্তা দিতে চাইল কংগ্রেস।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বার আর বামেদের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না কংগ্রেস। এককভাবেই সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা আগেই করা হয়েছিল। যদিও প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তৃণমূল ও বিজেপির তুলনায় কংগ্রেস পিছিয়ে পড়ছে বলেই মনে করছিলেন অনেকেই। নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষের খবর সামনে আসছিল।
অবশেষে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সেই জল্পনায় ইতি টানল হাত শিবির। তবে বাকি ১০টি আসনের প্রার্থী ঘোষণাই এখন নজরে—সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে আরও বড় চমক।





