পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর কেন্দ্রের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে প্রথমে স্বস্তির আভাস মিললেও, তার মধ্যেই উঠে এল নতুন প্রশ্ন— দাম কি সত্যিই কমবে, নাকি সামনে আরও অনিশ্চয়তা? কেন্দ্র জানিয়ে দিল, এবার থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর দেশে জ্বালানির দাম পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজ়েলে ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমিয়েছে। এর ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৩ টাকায়। ডিজ়েলের ক্ষেত্রে তা কার্যত শূন্যে। তবে এই হিসাবই শেষ কথা নয়। অন্তঃশুল্কের বাইরে আরও বিভিন্ন সেস ও শুল্ক মিলিয়ে পেট্রলে এখনও প্রায় ১১.৯ টাকা এবং ডিজ়েলে প্রায় ৭.৮ টাকা কর বহাল রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমসের চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কথা মাথায় রেখেই ভবিষ্যতে নিয়মিত দাম পর্যালোচনা করা হবে। তাঁর কথায়, “অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। পেট্রল, ডিজ়েল ও এটিএফের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।” একই সঙ্গে তিনি জানান, “প্রতি ১৫ দিন অন্তর দাম পর্যালোচনা করা হবে।”
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহণ হয়। ফলে সরবরাহে চাপ পড়তেই দাম ঊর্ধ্বমুখী।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— শুল্ক কমলেও সাধারণ মানুষের কি সত্যিই লাভ হবে? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ মূলত দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির ক্ষতি কমানোর জন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের খুচরো বাজারে এখনও পর্যন্ত পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম না বাড়ানোয় সংস্থাগুলির উপর চাপ বেড়েছে। সেই চাপ সামলাতেই শুল্ক কমানোর পথে হেঁটেছে কেন্দ্র।
ফলে আপাতত দামে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনার সিদ্ধান্তে ভবিষ্যতে দামের ওঠানামা আরও দ্রুত হতে পারে বলেই আশঙ্কা।





