আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্বাভাবিক উত্থানের প্রেক্ষিতে পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী (Hardeep Singh Puri) জানালেন, সরকারের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা ছিল—একদিকে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে আর্থিক চাপ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে বাঁচানো। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথই বেছে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক্স-এ পোস্ট করে পুরী লেখেন, ‘‘গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২২ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ৩০ শতাংশ, ইউরোপে ২০ শতাংশ এবং আফ্রিকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’’
এই পরিস্থিতিতে ভারতেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হলেও, তা আপাতত নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তঃশুল্ক কমানোর পথে হাঁটল কেন্দ্র। সরকার স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তে রাজস্বে ঘাটতি হলেও দেশের নাগরিকদের উপর বাড়তি চাপ না দেওয়াই ছিল অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তেল বিপণন সংস্থাগুলির ক্ষতির ধাক্কা সামলাতেও এই পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবারই জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়, আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে তা কার্যত শূন্যে এসে ঠেকেছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পরেও খুচরো বাজারে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমছে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে জ্বালানি সঙ্কট ঘিরে দেশজুড়ে লকডাউন জল্পনাও ছড়িয়েছে। সেই বিষয়ে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন পুরী। তাঁর কথায়, ‘‘আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, লকডাউন (Lockdown) নিয়ে যে খবর ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। কেন্দ্র এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে না। এই সময়ে আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।’’
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে তাল মেলাতেই এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত। তবে এর ফলে অন্তত আপাতত দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা কমেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।





