পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল মিনিস্ট্রি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস। নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা PNG পরিষেবা রয়েছে, সেখানে পরিবারগুলিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে LPG থেকে PNG-তে পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের LPG সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ভারতের LPG আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা জ্বালানি সরবরাহকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই নির্ভরতা কমাতেই বিকল্প হিসেবে PNG ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রের দাবি, PNG ব্যবহারে একাধিক সুবিধা রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে যাওয়ায় সিলিন্ডার বদলানোর ঝামেলা থাকে না। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেই এই জ্বালানির উৎস থাকায় আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। ফলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে এই ব্যবস্থা।
নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, যেসব এলাকায় PNG পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকরা আবেদন করবেন না, তাঁদের LPG সংযোগ তিন মাসের মধ্যে বাতিল করা হতে পারে। তবে যেখানে পাইপলাইন বসানো সম্ভব নয়, সেখানে LPG ব্যবহারের অনুমতি বহাল থাকবে।
প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, জ্বালানি সঙ্কটের চাপ সামলাতে এবং ভবিষ্যতের জন্য স্বনির্ভরতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঘরে যাতে জ্বালানির অভাব না হয় এবং দাম লাগামছাড়া না বাড়ে, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।





